উত্তরসূরী না রেখেই শীর্ষ নেতাদের নাম ঘোষণা করলেন শি

চীনের শীর্ষ শাসন পরিষদ হিসেবে পরিচিত কমিউনিস্ট পার্টির পোলিটবুরো স্ট্যান্ডিং কমিটির শীর্ষ নেতাদের নাম ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। তবে স্পষ্ট করে নিজের কোনও উত্তরসূরীর নাম উল্লেখ করেননি তিনি। অথচ এর আগে পোলিটবুরোতে প্রেসিডেন্ট এর উত্তরসূরি রাখার প্রথা দেখা যেত। তবে এবার সেই প্রথা ভেঙে শি'র কোন উত্তরাধিকারী না রাখায় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে কিভাবে তিনি শাসন কাজ পরিচালনা করতে যাচ্ছেন তা নিয়ে। একে শি’র আরও দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ইঙ্গিত বলে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

শি জিন পিং
বুধবার (২৫ অক্টোবর) পোলিটবুরোর স্ট্যান্ডিং কমিটির সাত সদস্যের মধ্যে পাঁচজনের নাম ঘোষণা করেন শি জিন পিং। তারা মূলত দেশটির নীতি নির্ধারনী পর্যায়ে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। এই পাঁচজন ছাড়া শি এবং লি কিকুয়াং পোলিটব্যুরোতে আগে থেকেই আছেন। এই ব্যুরোর সদস্যরাই পরবর্তী ৫ বছরের জন্য ক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থান করবে।

কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেসের একেবারে শেষ দিকে ঘোষণা করা হয় স্ট্যান্ডিং কমিটি এবং ২৫-সদস্য বিশিষ্ট পোলিট ব্যুরো কমিটি। কংগ্রেসে আসা ডেলিকেটরা বৈঠকে বসে সেন্ট্রাল কমিটি নির্বাচন করেন। এই ডেলিকেটরা, যারা সংখ্যায় প্রায় দু'শো, সাধারণত বছরে দুইবার বৈঠকে বসেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, পোলিট ব্যুরোর জন্য যে ৫ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে তাদের সবার বয়স ৬০ বছরের উপরে। বিবিসির চীনের সম্পাদক বলেছেন আগামী পাঁচ বছর মেয়াদ কালের মধ্যে তাদের অবসরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কমিটিতে তরুণ কোনও নেতা না থাকায় এখন গুঞ্জন চলছে শি হয়তো পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকবেন।

এর আগে, মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর চিন্তাকে দলীয় গঠনতন্ত্রে অন্তর্ভূক্ত করার প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করেছে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি। আধুনিক চীনের রূপকার হিসেবে স্বীকৃত মাও সে তুং-এর পর শি জিনপিং হলেন দ্বিতীয় ব্যক্তি, ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় যার চিন্তা দলীয় গঠনতন্ত্রে মতাদর্শের মর্যাদা পেল। মতাদর্শের মর্যাদা পাওয়ায় মাও-এর মতবাদ যেমন মাওবাদ হিসেবে বিবেচিত হয়, শি’র চিন্তাধারাও বিবেচিত হবে শি-বাদ হিসেবে। এর বিরুদ্ধে যে কোনও চ্যালেঞ্জ এখন থেকে কমিউনিস্ট পার্টির বিরুদ্ধের অবস্থান বলে বিবেচিত হবে।