কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেসের পর নিজের ক্ষমতা ধরে রাখায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী পাঁচ বছরের জন্য শি জিনপিং কোনও উত্তরসূরী ছাড়াই পার্টির নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। বুধবার (২৫ অক্টোবর) পোলিটবুরোর স্ট্যান্ডিং কমিটির সাত সদস্যের মধ্যে পাঁচজনের নাম ঘোষণা করেন শি জিন পিং। তারা মূলত দেশটির নীতি নির্ধারনী পর্যায়ে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। এই পাঁচজন ছাড়া শি এবং লি কিকুয়াং পোলিটব্যুরোতে আগে থেকেই আছেন। এই ব্যুরোর সদস্যরাই পরবর্তী ৫ বছরের জন্য ক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থান করবেন। তার নাম ও মতাদর্শ ঠাঁই পেয়েছে সংবিধানে।
শি’র সঙ্গে ফোনালাপে উত্তর কোরিয়া ও বাণিজ্য নিয়ে ট্রাম্পের কথা হয় বলে এক টুইটে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সামনের মাসেই ট্রাম্পের চীন সফর করার কথা। চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যশ জানায়. চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কিভাবে ভবিষ্যতে আরও দৃঢ় করা যায় সেই বিষয়ে কথা বলেছেন দুই নেতা।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পর চীনই বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক দেশ। দুই দেশের মাঝে ব্যবসায়িক সম্পর্কও রয়েছে। তবে দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে মাঝে মাঝেই বিবাদে জড়িয়ে পড়ে দুই দেশ।
এর আগে মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর চিন্তাকে দলীয় গঠনতন্ত্রে অন্তর্ভূক্ত করার প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি। আধুনিক চীনের রূপকার হিসেবে স্বীকৃত মাও সে তুং-এর পর শি জিনপিং হলেন দ্বিতীয় ব্যক্তি, ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় যার চিন্তা দলীয় গঠনতন্ত্রে মতাদর্শের মর্যাদা পেল। মতাদর্শের মর্যাদা পাওয়ায় মাও-এর মতবাদ যেমন মাওবাদ হিসেবে বিবেচিত হয়, শি’র চিন্তাধারাও বিবেচিত হবে শি-বাদ হিসেবে। এর বিরুদ্ধে যে কোনও চ্যালেঞ্জ এখন থেকে কমিউনিস্ট পার্টির বিরুদ্ধের অবস্থান বলে বিবেচিত হবে।