রোহিঙ্গা সংকট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে: ত্রাণ কর্মকর্তার সতর্কতা

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের মানবিক সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে’ বলে সতর্ক করেছেন মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংগঠনগুলোর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন সতর্কতা দেওয়া হয়।  

রোহিঙ্গা ২
রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস (আইসিআরসি) এর প্রেসিডেন্ট পিটার মাউরার রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা সেখানে সহিংসতার মাত্রা বাড়তে দেখেছি; কেবল সশস্ত্র পক্ষগুলোর মধ্যে এ সহিংসতা সীমিত নেই, তা বেসামরিকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবারগুলো খণ্ড খণ্ড হয়ে পড়ছে, পালাতে থাকা লোকজন নিজেদেরকে একেবারে অপাংক্তেয় ও সহায়হীন বলে বোধ করছে।’  

মাউরার বলেন, ‘আমি এই ভেবে উদ্বিগ্ন যে, চলমান এ আতঙ্কজনক পরিস্থিতি ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং আরও বেশি মানুষকে উদ্বাস্তু হওয়ার পথে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আমার সহকর্মীদের কয়েকজন একটি গ্রামে পৌঁছানোর জন্য ছয়-সাত ঘণ্টা হেঁটে যাওয়ার পর দেখেছেন গ্রামটি ধূ ধূ মরুভূমি হয়ে আছে।’

অবশ্য সম্প্রতি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রাখাইনে প্রবেশের অনুমোদনপ্রাপ্ত রেডক্রস কর্মীদেরকে বাস্তুহারাদের কাছে পৌঁছানোর জন্য দুটি হেলিকপ্টার ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন বলেও জানান মাউরার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্য পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংগঠন অ্যাকশন এগেইন্সট হাঙ্গার এর কান্ট্রি ডিরেক্টর নিপিন গঙ্গাধারান বলেন, অবিরাম সহিংসতার মধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছাতে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ সময় লাগছে, সেকারণে তাদের স্বাস্থের অবস্থাও দিন দিন খারাপ হচ্ছে।’

রয়টার্সকে গঙ্গাধারান আরও বলেন, ‘আমরা দেখছি, অপুষ্টির মাত্রা বেড়ে গেছে, বিশেষ করে শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগছে এবং লোকজন দিনে একবার খেয়ে বেঁচে আছে।’

গঙ্গাধারান জানান তার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ অপুষ্ট শিশুদেরকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং ট্রমায় আক্রান্তদেরকে মানসিক সমর্থন দেওয়া হচ্ছে।

২৫ আগস্ট নিরাপত্তা বাহিনীর চেকপোস্টে বিদ্রোহীদের হামলার পর ক্লিয়ারেন্স অপারেশন জোরদার করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তখন থেকেই মিলতে থাকে বেসামরিক নিধনযজ্ঞের আলামত। পাহাড় বেয়ে ভেসে আসতে শুরু করে বিস্ফোরণ আর গুলির শব্দ। পুড়িয়ে দেওয়া গ্রামগুলো থেকে আগুনের ধোঁয়া এসে মিশতে শুরু করে মৌসুমী বাতাসে। মায়ের কোল থেকে শিশুকে কেড়ে নিয়ে শূন্যে ছুড়ে দেয় সেনারা। কখনও কখনও কেটে ফেলা হয় তাদের গলা। জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয় মানুষকে।

জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন ইন্টারসেক্টর কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ- আইএসসিজি তাদের রবিবারের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আগস্টে সহিংসতা জোরালো হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ছয় লাখ তিন হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। 

জাতিসংঘ সেনা অভিযানকে রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বিভিন্ন রাষ্ট্র প্রধান ও মানবাধিকার সংস্থা রোহিঙ্গারা গণহত্যার শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। তবে মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সহিংসতার জন্য পাল্টা রোহিঙ্গাদের দায়ী করেছে।