যার কথা বলা হলো, তিনি বব রে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো তাকে পাঠিয়েছেন রোহিঙ্গা সংকটে বিশেষ দূতের ভূমিকা দিয়ে। দুইদিনের সফরে এসেছেন রে। শরণার্থী শিবিরে তাই ব্যস্ত সময় কাটছে তার। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবস্থা নিজের চোখে দেখা তার লক্ষ্য। দুই দিনে যতো বেশি সম্ভব তথ্য সংগ্রহ করা যায় তার চেষ্টা করছেন।
রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিরা শনিবার রে কে ঘুরে ঘুরে শরণার্থী শিবিরের বিপন্নতা দেখার সুযোগ করে দেন। তাকে এমন একটি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে কেবল নারীরা আছেন। যে পুরুষেরা এই নারীদের সঙ্গী ছিল, তারা চিরতরে হারিয়ে গেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়ে। বব রে এক এক করে এমন বারোজন নারীর মুখোমুখি হন। এই সময় তিনি ক্যামেরা সরিয়ে দেন, সরিয়ে দেন অন্যদেরও। সঙ্গে রাখেন কেবল একজন দোভাষীকে। বারো নারীর কাছ থেকে বব রে শুনে যান মিয়ানমারের সেনাসদস্যদের বর্বরতার আখ্যান। বারোজন নারী রে কে শোনান, তাদের ওপর সংঘটিত নানান ধারার নিপীড়নের কথা। কীভাবে তাদের ধর্ষণ করা হয়, কীভাবে সেনা বিমান থেকে তাদের গ্রামে বোমা নিক্ষেপ করা হয়, কীভাবে চোখের সামনে মেরে ফেলা হয় তাদের স্বামী-সন্তানকে।
ছোটো ছোটো বাচ্চাদের সঙ্গে পায়ের উপর ভর দিয়ে মাটিতে বসে কথা বলেছেন রে। তার মধ্যে কাজ করছিলো প্রচণ্ড এক অস্থিরতা। ‘যা শুনেছি, রাখাইনে যা ঘটেছে, আমি তাকে বলতে পরতাম এগুলো কল্পনার অতীত। কিন্তু দুঃখের কথা কী জানো, আমরা এখন এমন একটি পৃথিবীতে বসবাস করি, এগুলোর সবই এখানে দৃশ্যমান বাস্তব।’