ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১৮০ ছাড়িয়ে গেছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। ফিলিপাইন রেড ক্রসের চেয়ারম্যান রিচার্ড গর্ডন শনিবার রাতে এক টুইটে জানান, এ পর্যন্ত ১৫৬ জনের মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন ২৯১ জন। আহত ৮৬ জনের অবস্থা পর্যালোচনা করছে রেড ক্রিসেন্ট। পুলিশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারাও শতাধিক প্রাণহানির তথ্য জানিয়েছেন। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা এরইমধ্যে ১৮০ ছাড়িয়েছে। কোনও কোনও খবরে প্রাণহানির সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা জানান, নদীর তীর ও উপকূলীয় এলাকার অনেক মানুষ সতর্কতা উপেক্ষা করে বাড়িতে থেকে যাওয়ার কারণে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
কর্মকর্তা ম্যাগুয়েল লুইস ওচোটোরেনা বলেন, বন্যার পানি খুব দ্রুত গতিতে আঘাত হানায় অনেক মানুষ স্রোতে ভেসে গেছেন। তারা সতর্কতাকে গুরুত্ব দেননি। মনে করেছিলেন, এটা স্বাভাবিক বৃষ্টির সতর্কতা।
দ্বীপটির পূর্বাঞ্চলের কয়েকশ কিলোমিটার দূরে সেনাবাহিনী ও জরুরি সেবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি গ্রাম পুরোপুরি ভূমিধসে চাপা পড়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তা রায়ান কাবুস জানান, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়াতে উদ্ধার অভিযান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আবহাওয়া ব্যুরো জানিয়েছে, সুলু সাগরে ঝড়টি শক্তি সঞ্চয় করে এবং বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার। পরে তা ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম দিকে এগিয়ে যায়। শনিবার দুপুরে ঝড়টি সাগরের দিকে এগিয়ে যায়। সোমবারের মধ্যে তা ফিলিপাইন অতিক্রম করবে।
জরুরি সেবাকর্মী, সেনা, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপ সরানো, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় স্থাপনের কাজেও যোগ দিচ্ছেন তারা।
ভৌগোলিকভাবে ফিলিপাইন দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটিতে প্রতিবছর গড়ে ২০ ঝড় আঘাত হানে। এসব ঝড় দরিদ্র এলাকাগুলোতে প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ বয়ে নিয়ে আসে। গত সপ্তাহে ঝড়ের তাণ্ডবে দেশটির মধ্যাঞ্চলে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়। ২০১৩ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় হাইয়ানের তাণ্ডবে ফিলিপাইনে প্রায় আট হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। গৃহহীন হন প্রায় দুই লাখ পরিবারের সদস্যরা। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স।