গ্র্যামিজয়ী পপশিল্পী-গীতিকার লর্ড ইসরায়েলের তেল আবিবে কনসার্ট করার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নিজ দেশ নিউজিল্যান্ডে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় লর্ড ওই কনসার্ট বাতিল করেছেন।
লর্ডের প্রতি এক খোলা চিঠিতে ওই কনসার্টে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানান নিউজিল্যান্ডে বসবাসকারী সাবেক ফিলিস্তিনি নাগরিক নাদিয়া আবু সাহনাব ও জাস্টিন স্যাক। এরপর নিউজিল্যান্ডের ভক্তরাও লর্ডকে ওই কনসার্টে অংশগ্রহণ না করতে চাপ প্রয়োগ করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় পপশিল্পী ওই কনসার্টের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন।
রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) ইসরায়েলি নিউজ সাইট ওয়াইনেট এক খবরে জানায়, স্থানীয় আয়োজকরা এক বিবৃতিতে লর্ডের ওই কনসার্ট বাতিলের ঘোষণা কথা জানান।
চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলি রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। একইসঙ্গে তিনি তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে জেরুজালেমে নেওয়া হবে বলেও জানান। এর প্রতিক্রিয়ায় সারাবিশ্বে নিন্দার ঝড় ওঠে। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো জোট এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় পরে পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী বলে স্বীকৃতি দেয় মুসলিম দেশগুলোর সবচেয়ে বড় জোট ওআইসি। ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিবাদে এখনও পশ্চিমতীর, গাজা উপত্যকা আর পূর্ব জেরুজালেম জ্বলছে। এর বিপরীতে অব্যাহত রয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামীদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি দমনপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ।
খোলাচিঠিতে নাদিয়া ও জাস্টিন স্যাক জানান, এই বাস্তবতায় ইসরায়েলে লর্ডের কনসার্ট ‘ভুল বার্তা’ দিতে পারে। চিঠিতে তারা লর্ডের উদ্দেশে লিখেছেন, ‘তেল আবিবে কনসার্ট করা মানে হচ্ছে ইসরায়েলি সরকারকে সমর্থন দেওয়া। আপনি কনসার্টে কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য না করলেও এটাই বাস্তব।’ ওই খোলা চিঠির জবাবে ২১ বছর বয়সী বিখ্যাত পপ তারকা জানান, তিনি কনসার্টটি নিয়ে সম্ভাব্য সব ধরনের বিকল্প পথের অনুসন্ধান করছেন। সূত্র- নিউজউইক, দ্য জেরুজালেম পোস্ট ও হারেজ।