বড়দিনের বার্তায় শরণার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান পোপ ফ্রান্সিসের

‘আপন ভূমি থেকে বিতাড়িত’ লাখো শরণার্থীদের দুর্দশাকে এড়িয়ে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বের ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) ভ্যাটিকানে বড়দিনের আগের সন্ধ্যায় জড়ো হওয়া সব বয়সী মানুষের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।

_99353816_795ad676-c481-4459-ba38-cd4cda7711e7শরণার্থীদের মেরি ও জোসেফের সঙ্গে তুলনা করেন পোপ। একইসঙ্গে মেরি ও জোসেফ কিভাবে নাজারেথ থেকে বেথেলহাম পৌঁছান,  বাইবেল থেকে সেই গল্প শোনান তিনি। তার ভাষ্য, ‘নিরীহদের রক্ত-শোষণকে যারা সমস্যা মনে করে না, এমন নেতাদের কবল থেকে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন শরণার্থীরা।’

বিদেশিদের সর্বত্র স্বাগত জানানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন পোপ। ৮১ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন ধর্মগুরু নিজেকে ইতালিয়ান শরণার্থীদের দৌহিত্র বলে দাবি করে উপাসকদের উদ্দেশে বলেন, ‘জোসেফ ও মেরির পদচিহ্নে আরও অনেকের পদচিহ্ন রয়েছে। আমরা লাখো মানুষের পদচিহ্ন দেখছি, যারা পালিয়ে যাওয়াটাকে বেছে নেয়নি, বরং স্বজনদের রেখে নিজ ভূমি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।’

সিরিয়া ও ইরাকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) পতনের পর ইউরোপে শরণার্থীদের ঢল কিছুটা কমে এসেছে। কিন্তু ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযান ও মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর জাতিগত নিধনযজ্ঞের কারণে বিশ্বে এখনও শরণার্থী সংকট বিদ্যমান। এছাড়া ইউরোপে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেওয়া মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মানুষেরা রয়েছেন নানা দুর্ভোগে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শরণার্থীবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শরণার্থীদের বিরোধিতা করে ইউরোপের কয়েকটি দেশে উগ্র জাতীয়তাবাদীদের উত্থান ঘটছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শরণার্থীদের আটকাতে সাতটি মুসলিম দেশের অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এই অবস্থার মধ্যেই বিশ্বজুড়ে খ্রিস্টান ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে উৎসব বড়দিন পালন হবে আজ (সোমবার)।

 সূত্র: বিবিসি ওয়ার্ল্ড