ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংকট নিরসনে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস। সোমবার বড়দিন উপলক্ষ্যে দেওয়া বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতির প্রেক্ষিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
তিনি বলেন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সহিংসতায় পীড়িত শিশুদের মধ্যে আমরা যিশুকে দেখতে পাচ্ছি।
এদিকে আজ ২৫ ডিসেম্বর সোমবার ফিলিস্তিনিদের তৃতীয় ইন্তিফাদার ১৭ তম দিন চলছে। ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসেন ফিলিস্তিনিরা। ৮ ডিসেম্বর শুক্রবার থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইন্তিফাদা বা সর্বাত্মক প্রতিরোধের ডাক দেয় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ১৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গ্রেফতারকৃতের সংখ্যা এরইমধ্যে ৫০০ ছাড়িয়েছে। এমনকি ছোট শিশুদের ধরে নিয়ে খাঁচায় বন্দি করে রাখার মতো বর্বরোচিত ঘটনার ফুটেজও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত রয়েছে।
জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের ঘোষণার পর এ নিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো প্রকাশ্যে কথা বললেন পোপ ফ্রান্সিস। এর আগে ট্রাম্পের ওই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় তিনি জেরুজালেম নগরীর স্থিতাবস্থার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
বড়দিন শুরু হওয়ার প্রাক্কালে ২৪ ডিসেম্বর রবিবার দেওয়া আরেক ভাষণে ‘আপন ভূমি থেকে বিতাড়িত’ লাখো শরণার্থীদের দুর্দশার বিষয়টি এড়িয়ে না যেতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান পোপ ফ্রান্সিস। ভ্যাটিকানে বড়দিনের আগের সন্ধ্যায় জড়ো হওয়া ব্যক্তিদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।
শরণার্থীদের মেরি ও জোসেফের সঙ্গে তুলনা করেন পোপ। একইসঙ্গে মেরি ও জোসেফ কিভাবে নাজারেথ থেকে বেথেলহাম পৌঁছান, বাইবেল থেকে সেই গল্প শোনান তিনি। তার ভাষায়, ‘নিরীহদের রক্ত-শোষণকে যারা সমস্যা মনে করে না, এমন নেতাদের কবল থেকে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন শরণার্থীরা।’
বিদেশিদের সর্বত্র স্বাগত জানানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন পোপ। ৮১ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন ধর্মগুরু নিজেকে ইতালিয়ান শরণার্থীদের দৌহিত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘জোসেফ ও মেরির পদচিহ্নে আরও অনেকের পদচিহ্ন রয়েছে। আমরা লাখো মানুষের পদচিহ্ন দেখছি যারা পালিয়ে যাওয়াটাকে বেছে নেয়নি বরং স্বজনদের রেখে নিজ ভূমি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।’