ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফ এর একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত দুই জওয়ান নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অন্তত তিনজন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি হতাহতের এই সংখ্যা জানিয়েছে। তাছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর ১০ ঘণ্টার অভিযানে তিন সন্দেহভাজন হামলাকারী নিহত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। সব মিলে এই হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৫। এরইমধ্যে হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জয়েশ ই মোহাম্মদ। তাদের দাবি, সংগঠনের কমান্ডার নুর ত্রালিকে হত্যার বদলা হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, রবিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই পুলওয়ামা জেলার লেঠপোরায় সিআরপিএফ প্রশিক্ষণ শিবিরে কমপক্ষে দুইজন বন্দুকধারী হামলা চালায়। জঙ্গিরা প্রথমে গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং পরে এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ করে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি আনন্দ জানিয়েছে, শনিবার দিনগত রাত ২ টা নাগাদ সিআরপিএফ ক্যাম্পে হামলা হয়। এরপর দুইপক্ষের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ শুরু হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ৫০ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের জওয়ানরা পৌঁছায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ১০ ঘণ্টার বন্দুকযুদ্ধে হামলাকারীদের সবাই নিহত হয়েছে। আহত সিআরপিএফ জওয়ানদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
জয়েশ-ই মুহাম্মদ গেরিলা গোষ্ঠীর কমান্ডার নূর মুহাম্মদ নিহত হওয়ার বদলা নিতেই ওই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। গত ২৬ ডিসেম্বর পুলওয়ামাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে দিল্লি বিস্ফোরণ-কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত নুর ত্রালি নিহত হন। ২০১১-তে ওই মামলায় নুর-ছাড়া আরও চার জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল। এর পর ২০১৫-তে প্রথম প্যারোলে মুক্তি পান তিনি। তার পর বেশ কয়েক বার জেলে ফিরলেও বার বার জম্মু ও কাশ্মির হাইকএর্ট প্যারোলের আর্জি জানানো হলে আদালত সে আবেদনও মঞ্জুর করে। চলতি বছরের জুলাইতে আবারও প্যারোলে মুক্তি পান নুর। গত অক্টোবরে শ্রীনগর বিমানবন্দরের কাছে বিএসএফ শিবিরে গ্রেনেড হামলার পিছনে তার হাত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।