অর্থনৈতিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখতে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান আলোচনা

সাম্প্রতিক উত্তেজনার পরও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান। মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) মার্কিন দূত ডেভিড হ্যালে এবং পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা মিফতাহ ইসমাইলের মধ্যে বৈঠকে এই নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের পতাকা
সম্প্রতি এক টুইটার বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও সন্ত্রাসবাদে মদদের অভিযোগ তোলার পর ৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর থেকে সাহায্য বন্ধের ঘোষণা আসে। এক মার্কিন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, ২০০ কোটি ডলার পর্যন্ত সহায়তা স্থগিতের আভাস দিয়েছে হোয়াইট হাউস। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য, সামগ্রিকভাবে তারা যে সহায়তা পান, তার সাপেক্ষে ওই অর্থ খুবই সামান্য। এই নিয়ে যখন উত্তেজনা চলছে তখন মঙ্গলবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার ব্যাপারে বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। বৈঠকের পর পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ডেভিড হ্যালের সঙ্গে ইসমাইলের বৈঠকে পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, হ্যালে আমেরিকান বিজনেস কাউন্সিল (এবিসি) এর প্রতিনিধিদের আসন্ন পাকিস্তান সফরের ব্যাপারে ইসমাইলকে অবহিত করেছেন। তিনি জানান, পাকিস্তানের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এবিসি তাদের উপস্থিতি বাড়াতে চায় এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করতে চায়।

সূত্রকে উদ্ধৃত করে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানায়, ট্রাম্পের টুইটের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তীব্র টানাপড়েন চলছে। সালালা সীমান্ত চৌকিতে হামলা পরবর্তী সময়ে এতো তীব্র মাত্রার দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা দেখা যায়নি। তবে মঙ্গলবারের এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে আভাস মিলেছে, দুই দেশ এখনও সম্পর্কের টানাপড়েন মেটাতে আগ্রহী।

যুক্তরাষ্ট্র আর তাদের মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরেই ধারাবাহিক অভিযোগ করে আসছে, আফগান তালেবান ও তাদের মিত্র হাক্কানি নেটওয়ার্ককে নিরাপদ স্বর্গ গড়ে তুলতে দিয়েছে পাকিস্তান। আর সন্ত্রাসীরা তা ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে আফগানিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। পাকিস্তান বরাবর সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ অস্বীকার করে আসলেও ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে সমালোচনা কঠোর করেছেন। এর শেষ ফলাফল হিসেবে নিরাপত্তা সহযোগিতা স্থগিতের ঘোষণা এসেছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস ট্রাম্পের ঘোষণার পরও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার কথা জানিয়েছেন। বলেছেন, সহায়তা স্থগিত সাময়িক। আর এটি আপাতত স্থগিত করা হলেও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলবে যুক্তরাষ্ট্র।