মিয়ানমারে আটক হওয়া দুই রয়টার্স সাংবাদিককে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জন্য দেশটির কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ‘অফিসিয়্যাল সিক্রেটস অ্যাক্ট’ এর আওতায় মিয়ানমারের প্রসিকিউটররা ওই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর বুধবার (১০ জানুয়ারি) এই আহ্বান জানানো হয়েছে।
১২ ডিসেম্বর রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন (৩১) ও কিয়াউ সয়ে উ (২৭)-কে আটক করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুনে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নৈশভোজের পর তাদের আটক করা হয়। এই দুই সাংবাদিক রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চালানো নিধনযজ্ঞ নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন। মিয়ানমারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, রাখাইন প্রদেশে স্পর্শকাতর তথ্য নেওয়ার কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে ওই সাংবাদিকদের। তারা এই তথ্য বিদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের চেষ্টা করছিলেন। বুধবার তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। শুনানিতে রয়টার্স সাংবাদিকরা দাবি করেন, ‘তারা আমাদের গ্রেফতার করেছে কারণ আমরা তাদের হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। আমরা সত্য প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি।’
২৮ দেশীয় জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন হলো মিয়ানমারের একটি উল্লেখযোগ্য ঋণদাতা। বুধবার রয়টার্সের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জোটটি। অবিলম্বে ওই দুই সাংবাদিককে মুক্তি দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিবৃতিতে বলা হয়, অনেক বছরের সামরিক শাসনের পর মিয়ানমারে গণতন্ত্রের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে রয়টার্সের সাংবাদিকদের ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা বলে বিবেচিত হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুখপাত্র বলেন, ‘১৯২৩ সালের অফিসিয়্যাল সিক্রেটস অ্যাক্টের আওতায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে শুনেছি। আমরা আশা করি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এই সাংবাদিকদের অধিকারের পূর্ণ সুরক্ষা দেবে এবং যত দ্রুত সম্ভব মুক্তি দেবে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।