পাকিস্তানের পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২৫০ বিচার বহির্ভূত হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ

কয়েক ডজন ‘এনকাউন্টারে’ ২৫০ জন মানুষকে বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যার জন্য এক কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করেছে পাকিস্তানের পুলিশ। কাউন্টার টেররিজম বিভাগের (সিটিডি) তদন্তে করাচির মালির জেলার সাবেক সিনিয়র পুলিশ সুপার রাও আনোয়ারের বিরুদ্ধে এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২০ জানুয়ারি) বরখাস্ত করার পর গতকাল মঙ্গলবার দেশত্যাগ করতে চাইলে বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয়েছে তাকে। রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় তিনি দীর্ঘদিন একই এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

পাকিস্তানের পুলিশ কর্মকর্তা রাও আনোয়ার। সংগৃহীত ছবি

চলতি বছরের তিন জানুয়ারি পাকিস্তানের করাচি থেকে নকিবুল্লাহ মেহসুদ নামে এক মডেলকে তুলে নেয় আনোয়ারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ। পরে ১৩ জানুয়ারি সাংবাদিকদের আনোয়ার জানান পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চার তালেবান সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। ১৫ জানুয়ারি  পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন নিহতদের মধ্যে মেহসুদ রয়েছেন। এরপর বিক্ষোভ শুরু হলে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি সানাউল্লাহ আব্বাসির নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই তদন্ত রিপোর্টে জানা যায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আড়াইশো মানুষ হত্যায় জড়িত ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ হিসেবে পরিচিত আনোয়ার। মেহসুদকে হত্যায় জড়িত থাকার দায়ে তার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার মামলা দায়ের হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, গত দশ বছরে সিন্ধু প্রদেশে পাকিস্তানের করাচিতে দায়িত্ব পালন করেছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এই সময়ের মধ্যে তালেবান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানে তার দলের হাতে নিহত হয়েছেন আড়াইশো মানুষ। এসব অভিযানের অনেকগুলোই ভুয়া বলে প্রমাণ পেয়েছে পাকিস্তানের কাউন্টার টেররিজম বিভাগ। তবে করাচির আইনজীবী ও একটিভিস্ট জিবরান নাসির গার্ডিয়ানকে বলেছেন, আনোয়ার নিজে ৬৪ টি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় জড়িত। আর এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৬২ জন মানুষ। এসব ঘটনায় মাত্র এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

পাকিস্তানি মডেল নকিবুল্লাহ মেহসুদ। সংগৃহীত ছবি

পাকিস্তানের সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের তথ্যমতে গত বছর পাকিস্তানে ৪৯৫ জন বিচার বর্হিভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে করাচিতেই ৩০০ মানুষ নিহত হয়েছেন।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন সরকারি কর্মকর্তাদের সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আনোয়ারের সঙ্গে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল পিপলস পার্টির (পিপিপি) সখ্যতা রয়েছে। আর সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি চাকরি জীবনের বেশিরভাগ সময় করাচির মালির জেলার আশপাশে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকবার আদালতে হাজির হওয়ার নোটিশ অবমাননার অভিযোগ রয়েছে। কয়েকবার তার বিরুদ্ধে তদন্তও চালানো হয়েছে। তবে সে সবে তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি।

এক্সপ্রেস ট্রিবিউনকে তিনি জানান, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে সিন্ধু প্রাদেশিক সংসদের বিরোধী দল মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্টে (এমকিউএম) নেতা খাজা ইজহারুল হাসানের বাড়িতে অভিযোন চালানোর দায়ে আনোয়ারকে বরখাস্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমটিও গঠন করা হয়। তবে কয়েক মাসের মধ্যে দায়িত্বে ফিরে আসেন তিনি।

করাচির আইনজীবী ও একটিভিস্ট জিবরান নাসির বলেছেন, দুর্ভাগ্যজনক যে সিন্ধু সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আনোয়ারের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সজাগ ছিলেন না। আমরা চাই না কোনও একক ব্যক্তিকে সরিয়ে দেওয়া হোক বরং চাই পুরো নাটকের পর্দা উন্মোচন হোক।