সু চি’র কথিত রোহিঙ্গা প্যানেল থেকে বিল রিচার্ডসনের পদত্যাগ

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে অং সান সু চি’র গঠিত আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্যানেল থেকে পদত্যাগ করেছেন মার্কিন কূটনীতিক বিল রিচার্ডসন। বুধবার ১০ সদস্যের ওই প্যানেল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন এই ঝানু কূটনীতিক। বলেন, তিনি লোক দেখানো ওই প্যানেলের অংশ হতে চান না। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। আরেক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্টের খবরে বিল ক্লিনটন প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকারী বিল রিচার্ডসনকে সু চি’র বন্ধু হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

বিল রিচার্ডসন এবং অং সান সু চিসংকট নিরসনে সু চি’র নৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের সাবেক এই গভর্নর।

পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে এ কূটনীতিক রয়টার্সকে বলেন, ‘ওই পরামর্শক প্যানেল প্রকৃতপক্ষে একটি হোয়াইটওয়াশ। আমি সরকারের চিয়ারলিডিং স্কোয়াডের সদস্য হয়ে থাকতে চাই না।’

বিল রিচার্ডসনের পদত্যাগের এ সিদ্ধান্ত আসে মূলত ২২ জানুয়ারি ২০১৮ সোমবারের এক ঘটনায়। ওইদিন সু চি’র সঙ্গে রোহিঙ্গা বিষয়ক আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্যানেলের বৈঠকে অংশ নেন এ মার্কিন কূটনীতিক। এক পর্যায়ে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে খবর সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে তিনি কথা বলেন। কিন্তু বৈঠকে এ বিষয়টি তুলে ধরায় ক্ষুব্ধ হন মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী।

এক পর্যায়ে সু চি সাফ জানিয়ে দেন, সাংবাদিকদের বিচারের মুখোমুখি করার ওই ঘটনা আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্যানেলের দেখার বিষয় নয়।

বৈঠক শেষে ডিনারের সময়ও এ নিয়ে দুইজনের বিতর্ক অব্যাহত ছিল। রিচার্ডসন বলেন, সু চি’র প্রতিক্রিয়া ছিল উন্মত্ত।

অং সান সু চি’র মুখপাত্র জ তাই বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে বলেন, আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্যানেলের ওই বৈঠক আহ্বান করা হয়েছিল রাখাইন ইস্যুতে। কিন্তু বিল রিচার্ডসন বৈঠকের নির্ধারিত এজেন্ডার বাইরে একটি বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি কাঠামোর বাইরে চলে যান। ভুল বোঝাবুঝির কারণে তার পদত্যাগের জন্য আমরা দুঃখিত।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারে নতুন করে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ শুরু হওয়ার পর ছয় লাখ ৮৮ হাজার মানুষ জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে খবর সংগ্রহ করছিলেন রয়টার্সের দুই সাংবাদিক ৩১ বছরের ওয়া লোন এবং ২৭ বছরের কিয়াউ সো ও। ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর তাদের ডিনারে ডেকে নিয়ে আটক করে বার্মিজ পুলিশ।

মিয়ানমার সরকার বলছে, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সংক্রান্ত গোপন প্রামাণ্য দলিল রাখায় রয়টার্সের ওই সাংবাদিকদের গ্রেফতার করা হয়েছে।