দক্ষিণ কোরিয়ার মিরিয়াং এলাকার হাসপাতালে লাগা আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১ জনে দাঁড়িয়েছে। আগুনে নিহতের এই সংখ্যা গত এক দশকে সর্বোচ্চ। গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার জেচেওন শহরে একটি জিমে আগুন লেগে ২৯ জন নিহত হয়েছিল। হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ওই ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭০ জনেরও বেশি। এদের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ওই হাসপাতালের অভ্যন্তরে ২০০ রোগী অবস্থান করছিলো বলে জানায় স্থানীয় বার্তা সংস্থা। এদের মধ্যে কেবল ৯৩ জনকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে খবর দিয়েছে তারা। তবে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ঘটনাস্থল থেকে ২০০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি ভবন (ব্লু হাউস) সূত্রকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, জীবিতদের জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। প্রাথমিকভাবে ব্লু হাউস নিহতের সংখ্যা ৪১ বলে জানালে দমকল বিভাগের প্রধান প্রাণহানির সংখ্যা ৩৭ বলে উল্লেখ করেছে।
বিবিসি জানিয়েছে, মিরিয়াং অঞ্চলটি দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল থেকে প্রায় ২৭০ কিলোমিটার দূরে। ধারণা করা হচ্ছে, সকালে আগুন লাগার সময় ওই ভবন এবং পাশের নার্সিং হোমের ভেতর ২০০ রোগী অবস্থান করছিলেন। সেখানে কতজন স্টাফ ছিলেন তা জানা যায়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়নহাপকে উদ্ধৃত করে বিবিসি জানায়, সেজং হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে মনে করা হচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার দমকল বিভাগের প্রধান চোই মান উ সাংবাদিকদের বলেছেন, এখন পর্যন্ত আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। তাকে উদ্ধৃত করে ফরাসি বার্তা এএফপি জানায়, ‘হাসপাতাল এবং নার্সিং হোম দুই জায়গাতেই প্রাণহানি হয়েছে। অন্য একটি হাসপাতালে নেওয়ার পথেও কয়েকজন মারা গেছেন।’ চোই মানকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, দমকলকর্মীরা এরইমধ্যে ২০০ জনকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেছেন। এদের মধ্যে আটজনের অবস্থা গুরুতর। নিহতরা বেশিরভাগই প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় অবস্থান করছিলেন বলে জানান তিনি। চো জানান, কারও শরীরই আগুনে ঝলসে যায়নি। আগুনের কারণ জানতে তদন্তে নেমেছে কর্তৃপক্ষ।
দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট এক মোবাইল বার্তায় দ্রুত আগুনের ক্ষয়ক্ষতি ও কারণ চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।