কক্সবাজারের রোহিঙ্গাদের জন্য আমিরাতের বিশেষায়িত হাসপাতাল





মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য কক্সবাজারের বালুখালিতে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একদল চিকিৎসক। জায়েদ হিইম্যানিটারিয়ান ফিল্ড হাসপাতাল (জেডএইচএফএইচ) নামের ওই প্রতিষ্ঠানটিতে বেশ কয়েকজন সিনিয়র কনসালটেন্ট ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। তারা শরণার্থীদের রোগ শনাক্তের পাশাপাশি চিকিৎসা ও প্রতিরোধমুলক ব্যবস্থা নেবেন।

আমিরাতের চিকিৎসকদের বিশেষায়িত হাসপাতালে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চিকিৎসা সেবার পুরনো ছবি
২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। মিয়ানমারে সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে নিয়ে তারা রোহিঙ্গাদের ওপর খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ চালান। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় খুঁজে পেয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত। পালিয়ে আসা এসব রোহিঙ্গাদের জন্য বিভিন্ন দেশ ও সাহায্য সংগঠন মানিবক সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশের পাশে হাজির হয়েছে।
আমিরাতের হাসপাতালটির মানবিক সাহায্য বিষয়ক দূত রিম ওথম্যান বলেন, জেডএইচএফএইচ হাসপাতালে হৃদরোগ, বুক ও ত্বকের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজতে আরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে যুক্ত করা হবে।
ওথম্যান বলেন, আমিরাতের চিকিৎসকেরা স্বেচ্ছা-কার্যক্রমের একটি বিশেষায়িত মডেল অনুসরণ করে কাজ করছেন। আর এর মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা উপকরণের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে ১২ হাজার শিশু ও বয়স্ক রোগীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
আমিরাতে হৃদরোগ সার্জন ও হাসপাতালটির নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. আদেল আল সামরি জানান, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবিক সংস্থার অধীনে স্বেচ্ছাসেবী এই হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে।