রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো মিয়ানমারের নিপীড়ন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টের কারণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার জেইদ রাদ আল হুসেইন। সোমবার ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের মতো ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও অত্যাচার চলমান রয়েছে। এই জনগোষ্ঠীর মানুষ নাগরিকত্ব, আইনি স্বীকৃতি, জন্মসনদ, শিক্ষা ও কাজের সুযোগের মতো বিষয়গুলোতে খুব চাপের ভেতর রয়েছে।
রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় যথেষ্ট মনোযোগ না দেওয়ায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারকদেরও সমালোচনা করেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক এই হাইকমিশনার।
তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযান শুরুর পর সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি মানুষ নিজ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
রোহিঙ্গাদের বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠী বলে মনে করে জাতিসংঘ।
চিকিৎসকদের মানবিক সাহায্য সংস্থা ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’-এর হিসাবে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের অন্তত নয় হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, রোহিঙ্গাবিরোধী সহিংসতার নিহতদের মধ্যে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা ৭৩০।
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, হত্যা, নির্মম প্রহার ও গুমের মতো কর্মকাণ্ডে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে জাতিসংঘের অনুসন্ধানে। সংস্থাটি বলছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের এমন ঘটনাপ্রবাহ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের শামিল।