চলমান সংকটে ভারতের হস্তক্ষেপ চাইলেন মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট

 

মালদ্বীপের চলমান রাজনৈতিক সংকটে ভারতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দেশটির নির্বাসিত সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহামেদ নাসিদ। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সুপ্রিমি কোর্টের দুই বিচারক ও সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুমকে মুক্ত করতে ভারতের সামরিক বাহিনী সমর্থিত একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোরও আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন ও তার সহযোগীদের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপেরও আহ্বান জানান নাসিদ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

মালদ্বীপের নির্বাসিত সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহামেদ নাসিদ

এর আগে নির্বাহী ক্ষমতা বলে জারি করা জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত আইনকে আরও কঠোর করার ঘোষণা দেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লা ইয়ামিন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য সান জানিয়েছে, এজন্য আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়েছে। আনীত সংশোধনীর মাধ্যমে জরুরি অবস্থা চলাকালীন গ্রেফতার হওয়াদের অধিকার সীমিত করা হয়েছে। দ্য হিন্দু-এর এক খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের তৎপরতায় এরইমধ্যে বিরোধীদের মনে ব্যাপক শঙ্কা ও ভীতি তৈরি হয়েছে।

নির্বাসিত সাবেক প্রেসিডেন্ট নাসিদ ভারতের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা সক্রিয় উপস্থিতি কামনা করছি। ’ তিনি আরও বলেন, ‘ইয়ামিন অবৈধভাবে সামরিক আইন জারি করে রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে পদদলিত করেছেন।’

মালদ্বীপের বিরোধী দল এমডিপি’র প্রতিষ্ঠাতা নাসিদ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা চাই যুক্তরাষ্ট্র সরকার মালদ্বীপের শাসক নেতাকে সব ধরনের মার্কিন আর্থিক সহায়তা বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করবে।’  

মালদ্বীপের জরুরি অবস্থার বিষয়ে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র সব পক্ষকে ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল এক টুইট বার্তায় বলেছে, ‘মালদ্বীপের সরকার ও সামরিক বাহিনীকের অবশ্যই আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে মেনে চলতে হবে। বিশ্ব তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।’

গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি শান্তিপূর্ণভাবে জরুরি অবস্থা শেষ করার জন্য ইয়ামিনের প্রতি আহ্বান জানান। আর বাংলাদেশ, চীন, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ নিজেদের নাগরিকদের মালদ্বীপ ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে।

মালদ্বীপের সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া একটি ঐতিহাসিক আদেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। জরুরি অবস্থা জারির সময় প্রেসিডেন্ট বলেন, তারা সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অমান্য করেছেন কারণ তাদের রায়ে নির্বাহী ক্ষমতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম হুমকির মুখে পড়বে। এতে করে জাতীয় নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ ব্যাহত হবে। তার রায় বাস্তবায়িত হলে মালদ্বীপের সাংবিধানিক ক্ষমতা খর্ব হতে পারে।