তাইওয়ানে ভূমিকম্পে নিখোঁজ প্রায় দেড়শ, চলছে উদ্ধার কাজ

তাইওয়ানে হুয়ালিন শহরে মঙ্গলবার রাতে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে এখনও কমপক্ষে ১৪৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২১৯ জন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, নিখোঁজদের অনেকে একটি সামরিক হাসপাতালসহ বিভিন্ন ভবনে আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চলছে।

তাইওয়ানে হেলে পড়া সামরিক হাসপাতাল

খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে উপকূলীয় ওই শহর থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরপূর্বে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। কম্পনের ফলে আংশিক ভেঙে পড়া হোটেল ও আবাসিক ভবন থেকে আক্রান্ত লোকজনকে সরিয়ে নিতে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দিতে সেনাবাহিনীকেও তলব করা হয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ভূ-পৃষ্ঠের মাত্র এক কিলোমিটার গভীরে। কেন্দ্র থেকে ১৬০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত রাজধানী তাইপেতেও ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।

পর্যটন নগরী হুয়ালিনে প্রায় এক লাখ মানুষ বাস করেন। ভূমিকম্পের আঘাতে এর রাস্তাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৪০ হাজার বাড়ির পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি ৬০০ বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ নষ্ট হয়েছে।

সেখানকার একটি সামরিক হাসপাতাল ঘিরে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে উদ্ধারকর্মীরা। হাসপাতাল ভবটির সব জানালা ভেঙে গেছে। আর ভবনটি প্রায় ৪০ ডিগ্রি কোনাকুনিতে হেলে পড়েছে। ভবনটির ভেতরে অনেকে আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার কাজের চারপাশে উৎসুক জনতা ভীড় জমিয়েছেন।

ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকর্মীদের তৎপরতা

সামরিক হাসপাতালটির পাশের এক রেস্টুরেন্টের মালিক লিন চিং-ওয়েন বলেন, ভূমিকম্পের সময় আমাদের দোকান খোলা ছিল। আমি আমার স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে দৌড়ে যাই। পরে লোকজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করি।

এদিকে উদ্ধার অভিযান তদারকি করতে বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে যান তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট তাসি ইং-ওয়েন। তার দফতর থেকে পাঠানো এক বিবৃতি বলা হয়, প্রেসিডেন্ট মন্ত্রিপরিষদ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের দ্রুত দুর্যোগ প্রশমন ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া দ্রুত ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশও দেন তিনি।   

চীনের অন্তর্ভূক্ত তাইওয়ান একটি স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ। দুটি টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছেই অবস্থান হওয়ায় এলাকাটি ভূমিকম্প প্রবণ। গত রবিবারও সেখানে ৬ দশমিক ০১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হনে। এর তাণ্ডবে প্রাণ যায় ১১৬ জনের। আর ১৯৯৯ সালে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় দুই হাজার ৪শ মানুষ প্রাণ হারায়। বাস্তুহারা হয়ে পড়েন প্রায় এক লাখ মানুষ।