মালদ্বীপের জেলে বিচারপতির সঙ্গে বাজে আচরণ করা হচ্ছে: নাশিদ

মালদ্বীপে সাম্প্রতিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে গ্রেফতার হওয়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলি হামিদের সঙ্গে কারাগারে বাজে আচরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ। গ্রেফতারকৃত সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গাইয়ুমও খাবার খাচ্ছেন না বলেও দাবি করেছেন তিনি। ২০১৬ সাল থেকে ব্রিটেনের আশ্রয়ে থাকা নাশিদ বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এক টুইটার পোস্টে এসব দাবি করেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

নাশিদ
মালদ্বীপে সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া একটি ঐতিহাসিক আদেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম মুয়াজ আলি  জানান, সংবিধানের ২৫৩ অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী ১৫ দিনের জন্য দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট। রাষ্ট্রপ্রধানের ভাষ্য, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে নির্বাহী ক্ষমতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা ছিল। জরুরি অবস্থা জারির পর মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত আইনে কঠোরতা আনা হয়। গ্রেফতার হন প্রধান বিচারপতি আব্দুল্লাহ সাঈদ ও বিচারপতি আলি হামিদ। আদালতের অভ্যন্তরে কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়েন অন্য বিচারকরা। আটক হন বর্তমান প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিনের সৎ ভাই সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গাইয়ুম। প্রেসিডেন্টের দাবি, সর্বোচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়িত হলে মালদ্বীপের সাংবিধানিক ক্ষমতা খর্বের আশঙ্কা ছিল। ব্যাহত হতে পারতো জাতীয় নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ। 

মঙ্গলবার দুই বিচারপতি গ্রেফতার হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় ৯ রাজনীতিককে মুক্তির আদেশ দিয়ে জারি করা রুলটি প্রত্যাহার করে নেন বাকি তিন বিচারপতি। তবে এখনও জেলেই আছেন আটক দুই বিচারপতি। বুধবার এক টুইটে নাশিদ দাবি করেন, জেলের ভেতরে বিচারপতি আলি হামিদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। মামুন আব্দুলও খাবার খাচ্ছেন না। টুইটারে নাশিদ লিখেছেন, ‘আমাকে বলা হয়েছে প্রেসিডেন্ট গাইয়ুম খাবার খাচ্ছেন না, বিচারপতি আলি হামিদের সঙ্গে বাজে আচরণ করা হচ্ছে।’ তবে নাশিদ এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু লিখেননি।

এদিকে ইয়ামিন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও গাইয়ুমের মেয়ে দুনিয়া মামুন বাবাকে নিয়ে নাশিদের করা দাবিটি নাকচ করে দিয়েছেন। রয়টার্সের কাছে দুনিয়া দাবি করেন, ‘আমি মাত্রই বাবার সঙ্গে দেখা করে এসেছি। তিনি ভালো আছেন। নাশিদ গুজব ছড়াচ্ছেন কেবল।’

১৫ দিনের জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরও বাড়বে কিনা তা নিয়ে এরইমধ্যে শঙ্কা প্রকাশ করেছে  যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। ১৫ দিনের জরুরি অবস্থা যেন স্থায়ী রুপ না নেয়, সে ব্যাপারে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। এক বিবৃতিতে সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক দিনুশিকা দিসানায়েক বলেন, ‘মালদ্বীপের কর্তৃপক্ষ এর আগেও বাকস্বাধীনতা উপর আঘাত এনেছে। বিগত কয়েকবছরে প্রতিপক্ষকে চুপ রাখতে বেশ কিছু কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে তারা।' এবার জারিকৃত জরুরি অবস্থাকে যেন নিপীড়নের লাইসেন্স না বানানো হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক করেছেন তিনি।