চীনের পুলিশ বিশেষ সানগ্লাস ব্যবহার করা শুরু করেছে। সানগ্লাসগুলোতে ক্যামেরা লাগানো। আর ক্যামেরা যুক্ত সন্দেহভাজনদের ছবির তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে। ক্যামেরাযুক্ত এই সানগ্লাস ব্যবহার করে সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করতে সফল হয়েছে চীনা পুলিশ।
সানগ্লাসে লাগানো ক্যামেরা ভিড়ের ভেতর থাকা মানুষের ছবি তুলে পাঠিয়ে দেয় তথ্যভাণ্ডারে। সেখানে রাখা সন্দেহভাজনদের ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয় নতুন ছবিটি। সন্দেহভাজনদের কারও সঙ্গে মিলে গেলে তা জানানো হয় ব্যবহারকারী পুলিশ সদস্যকে। এই প্রক্রিয়ায় অন্তত সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ চীনের ঝেংঝাউ শহরের রেলস্টেশনে এই বহনযোগ্য ক্যামেরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে হাতেনাতে ফল পেয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা থেকে শুরু করে মানবপাচারের মতো অপরাধের অভিযোগ থাকা সাত জন সন্দেহভাজনকে ক্যামেরা-সানগ্লাসের সাহায্যে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করেছে তারা। এছাড়া আরও ২৬ জনকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে যারা ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করছিল।
সমালোচকরা সন্দেহ করছেন যে, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের হেনস্তা করা হতে পারে। এমনকি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের নিয়ে তৈরি পৃথক তথ্যভাণ্ডার বানিয়ে তারও অপব্যবহার করতে পারে সরকার।
মুখের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার প্রযুক্তিতে চীন অনেক এগিয়ে আছে। দেশটি আগেও কয়েকবার তার নাগরিকদের প্রতি সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছে এই বলে যে, এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা যে কাউকে ধরতে পারবে। চীন তার এই প্রচেষ্টাকে ‘পৃথিবীর বৃহত্তম নজরদারি ব্যবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সব নাগরিককে এর আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনার রয়েছে দেশটির।
বেইজিংভিত্তিক এলএলভিশন এই নজরদারি ব্যবস্থাটি তৈরি করেছে। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তথ্যভাণ্ডারটির সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যবহার করে সানগ্লাসে থাকা ক্যামেরার যোগাযোগ করার প্রয়োজন পড়ে না। ব্যবহারকারীর কাছে থাকা বহনযোগ্য ডিভাইসেই থাকে তথ্যভাণ্ডারটি।