বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত মামলাটিকে ধর্মীয় বিরোধ নয়, নিছক ‘জমি নিয়ে গণ্ডগোল’ হিসেবে দেখতে বলেছেন ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, বাদী ও আসামী পক্ষের বাইরে তৃতীয় কোনও পক্ষ এই মামলার যুক্তি-তর্কে অংশ নিতে পারবে না। আদালত সূত্রে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এই খবর জানিয়েছে।
রামমন্দির-বাবরি মসজিদ বিরোধ ৭০ বছরের। হিন্দুত্ববাদী দল ও গোষ্ঠীগুলোর বিশ্বাস, বাবরি মসজিদের অবস্থান যেখানে, সেখানেই জন্ম হয়েছিল রামের। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর কর সেবকরা বাবারি মসজিদ আক্রমণ করেছিল। ২০১০ সালে সেপ্টেম্বরে এলাহাবাদ হাইকোর্টের তিন বিচারকের বেঞ্চ বিরোধপূর্ণ স্থানটি তিন ভাগে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন। এখন ভারতের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মামলাটির আপিল শুনানি চলছে।
কয়েকজন ‘বিখ্যাত ব্যক্তির’ প্রতিনিধি দাবী করে একজন আইনজীবী আপিল শুনানিতে তাকে সুযোগ দেওয়ার দাবী জানালে আদালতের পক্ষ থেকে তা নাকচ করে দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়, মামলার বাদী ও বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরাই তাদের নিজ নিজ বক্তব্য তুলে ধরতে যথেষ্ট সক্ষম। জমির মামলায় অন্য কোন বিষয় সামনে না আনারও নির্দেশনা জারি করা হয়।
বৃহষ্পতিবার তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চের সামনে আইনজীবী সি উ সিং আদালতকে জানান, তিনি ‘কয়েকজন বিখ্যাত ব্যক্তির’ প্রতিনিধি এবং সারা দেশ তোলপাড় করে ফেলা বাবরি মসজিদ মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় উপস্থিত থেকে যুক্তি উপস্থাপন করতে চান। তখন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রা, বিচারপতি আশোক ভূষণ এবং বিচারপতি এস আব্দুল নাজিরের বেঞ্চ তাকে জানিয়ে দেন, মামলাটি আপিলের জন্য তাদের বেঞ্চে এসেছে এবং সেটি জমি নিয়ে হওয়া বিরোধের সাথে প্রাসঙ্গিক আইনের ধারায় করা হয়েছে। উভয়পক্ষই এ বিষয়ে নিজ নিজ বক্তব্য যথার্থভাবে তুলে ধরতে সক্ষম। আদালত ‘তৃতীয় পক্ষকে’ সুযোগ দেবে না।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু বলছে, এর মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, আপিলের শুনানি চলাকালে ধর্মীয় সংঘাতের ইতিহাস ও অযোধ্যায় হওয়া সহিংসতা নিয়ে আদালত কোনও বক্তব্য শুনতে নারাজ। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মামলাটি জমি নিয়ে, ধর্ম নিয়ে নয়।
আদালতের এই বক্তব্যের পর আইনজীবী সিউ সিং বলেন, আদালত তৃতীয় পক্ষকে সুযোগ দিতে না চাইলেও এটাই বাস্তব যে এই আপিল কার্যক্রম ‘তৃতীয় পক্ষ’ বিজেপি নেতা সুব্রামনিয়াম স্বামীর কারণেই পাদপ্রদীপের আলোতে এসেছে। তাই ‘তৃতীয় পক্ষের’ নিয়োগকৃত আইনজীবী হলেও তার সুযোগ পাওয়ায় উচিত। আদালতের পক্ষ থেকে আইনজীবীর আবেদন খারিজ করে দিয়ে বলা হয়, ‘সেটা আমার দেখার বিষয় না। আপিলের আবেদনটি এই বেঞ্চে পাঠিয়েছেন আমার পূর্বসুরী জে এস খেহার’।
বৃহস্পতিবারের আপিল শুনানিতে আদালতের কাছে প্রায় পাঁচশ মামলা সংক্রান্ত নথি উপস্থাপন করা হয় যার মধ্যে ছিল গীতা, রামায়ন এবং সংস্কৃত-পালি ভাষায় লিখিত বিভিন্ন নথি। ৮৭ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্যের বিবরণের সাথে সাথে ‘আরকিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার’ প্রতিবেদন আদালতকে দেওয়া হয়। বাকী থাকা কিছু নথির অনুবাদ ও কিছু ভিডিওচিত্রের অনুলিপি সম্পন্ন করার জন্য আদালত উভয় পক্ষকে দুই সপ্তাহ সময় বেঁধে দেন।