ফোনালাপে উত্তেজিত ট্রাম্প, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের যুক্তরাষ্ট্র সফর স্থগিত

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপে উত্তেজিত হয়ে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিক পেনা নিয়েতো’র সঙ্গে প্রায় ৫০ মিনিটের মতো কথা বলেন ট্রাম্প। স্বভাবতই আলোচনায় উঠে আসে মেক্সিকো সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়াল নির্মাণের প্রসঙ্গ। এ নিয়ে কথোপকথনের এক পর্যায়ে রাগান্বিত হয়ে পড়েন ট্রাম্প। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, প্রেসিডেন্টকে হতাশ ও উত্তেজিত করা হয়েছে। ওই ফোনালাপে হোয়াইট হাউসে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের আসন্ন সফরসূচি স্থগিত করা হয়েছে। 

nonameট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে মেক্সিকান প্রেসিডেন্টের এটাই ছিল প্রথম সফরসূচি।

সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের খরচ দেবে না মেক্সিকো-প্রকাশ্যে এটা স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানান ট্রাম্প। মূলত এ নিয়েই দুই নেতার আলোচনায় জটিলতা তৈরি হয়।

ট্রাম্পের ওই রাগান্বিত ফোন কলের পর শনিবার একজন শীর্ষস্থানীয় মার্কিন কর্মকর্তা দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, দুই নেতা একমত হয়েছেন যে ওই সফরের জন্য এটি সঠিক সময় নয়। তবে তাদের টিম আলোচনা অব্যাহত রাখবে এবং একযোগে কাজ করবে।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচনি প্রচারণায় ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের খরচ মেক্সিকোর কাছ থেকে আদায় করা হবে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তার ওই প্রতিশ্রুতি থেকে সরিয়ে নিতে এনরিক পেনা নিয়েতো’র যে অব্স্থান, তাকে অযৌক্তিক মনে করেন ট্রাম্প।

এদিকে এনরিক পেনা নিয়েতো’র ওই সফর আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন মেক্সিকান কর্মকর্তারা।

ওই ফোনালাপের পর মেক্সিকোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মেক্সিকোতে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনায় সমবেদনা জানিয়েছেন ট্রাম্প। বাণিজ্য ও নিরাপত্তার মতো নানা ইস্যুতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন দুই নেতা। এই দাফতরিক বিবৃতির বাইরে ফোন কলটি নিয়ে আর কোনও কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মেক্সিকান পররাষ্ট্র দফতর।

উল্লেখ্য, বিদেশি নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্পের উত্তেজিত হয়ে পড়া নতুন নয়। এর আগে গত  বছর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। একটি শরণার্থী চুক্তি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের এক পর্যায়ে ধমক দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ফোন কেটে দেন ট্রাম্প। দুই নেতার ঘণ্টাব্যাপী ফোনালাপের কথা থাকলেও মাত্র ২৫ মিনিটের মাথায় আচমকা ফোন রেখে দেন ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। সে সময় ওই ফোনালাপকে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে নিজের ‘এ পর্যন্ত সবচেয়ে বাজে’ আলাপ হিসেবে অভিহিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ওই ফোনালাপের পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করো না। কারণ তারা খুবই নির্দয়। আমাদেরও কঠিন হতে হবে। আমরা বর্তমানে কঠিন সময় পার করছি। আমাদের কাছ থেকে বিশ্বের প্রত্যেক জাতি সুবিধা নিয়েছে। তবে এটা আর চলতে দেওয়া যায় না।’ সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, রয়টার্স, বিবিসি।