আফগানিস্তানে নতুন করে সংঘটিত দুটি হামলার দায় স্বীকার করেছে তালেবান। মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) একটি চেকপয়েন্টে তালেবানের হামলায় অন্তত ছয় পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে। একইদিন দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে আলাদা একটি ঘটনায় ১৯ পুলিশসহ ৩০ জনকে অপহরণ করেছে তালেবান সদস্যরা। আফগান কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (১ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা খবরটি জানিয়েছে।
আফগান কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার রাতে কান্দাহার ও উরুজগান প্রদেশের মধ্যবর্তী সীমান্তে একটি বাস থামিয়ে ১৯ পুলিশ সদস্যসহ ৩০ জনকে অপহরণ করে এক দল দুর্বৃত্ত। তাদের গায়ে সেনা পোশাক ছিল। কান্দাহার গভর্নরের মুখপাত্র কুদরতউল্লাহ খুশবখত বলেন, ‘বাসে বেসামরিকরাও ছিল। ওই হামলার পর অপহৃতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি আমরা।’
দ্বিতীয় হামলাটি হয় কান্দাহার প্রদেশের শাহ ওয়ালি কট জেলার একটি পুলিশ চেকপয়েন্টে। কান্দাহারের পুলিশ প্রধান স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, ওই হামলায় ছয় পুলিশ সদস্য নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়। দুটি হামলারই দায় স্বীকার করে তালেবানের পক্ষ থেকে বলা হয়, অপহৃত পুলিশ কর্মকর্তারা ‘জীবিত’ আছেন।
এদিকে শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বুধবার আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি তালেবানকে একটি বৈধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। এর আগে আফগান শান্তি আলোচনায় বসতে দুইটি পূর্বশর্ত বেঁধে দিয়েছে তালেবান। তাদের প্রথম শর্ত: আফগান কর্তৃপক্ষ নয়,আলোচনা হবে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। আফগান তালেবানের একজন শীর্ষ নেতা আল জাজিরাকে বলেছেন,দেশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে শান্তি আলোচনার কেন্দ্রীয় বিবেচ্য হিসেবে দেখছে তালেবান। সে কারণেই তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চাইছে। তালেবানের দ্বিতীয় শর্ত অনুযায়ী আলোচনাস্থল হতে হবে তাদের দোহার কার্যালয়। আল জাজিরা জানিয়েছে,স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দোহা কার্যালয় বন্ধে কাতারের সঙ্গে আফগান কর্তৃপক্ষের দেনদরবারের খবর প্রকাশিত হওয়ার প্রেক্ষিতেই দ্বিতীয় শর্তটি জুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।