পাকিস্তানের সিনেট নির্বাচনের বেসরকারি ফল প্রকাশিত হয়েছে। শনিবার পাঞ্জাব, সিন্ধ, খাইবার পাখতুনখাওয়া, বেলুচিস্তান ও কেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত উপজাতীয় এলাকায় এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনি ফলাফলে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ)। সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য পাঞ্জাবে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে দলটি। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডন।
এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবারও পাকিস্তানের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজের অবস্থান সংহত করলো মুসলিম লীগ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পিপিপি। আর তৃতীয় স্থানে রয়েছে তেহরিক-ই-ইনসাফ।
পাঞ্জাবে মোট ১২টি আসনের মধ্যে ১১টিতেই জয় পেয়েছে দলটি। পাকিস্তানের রাজনীতিতে এ রাজ্যটিকে মুসলিম লীগের ঘাঁটি মনে করা হয়।
দক্ষিণাঞ্চলীয় সিন্ধ প্রদেশের ১২টি আসনের মধ্যে ১০টিতে জয় পেয়েছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। দীর্ঘদিন ধরে এ রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে দলটি।
উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে ভালো ফল করেছে তেহরিক-ই-ইনসাফ। বেলুচিস্তান এবং আফগান সীমান্ত সংলগ্ন কেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত উপজাতীয় অঞ্চলের অধিকাংশ আসনে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
শনিবারের নির্বাচনে পর ১০৪ সদস্যের সিনেটে মুসলিম লীগের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৩। তবে সিনেটের চেয়ারম্যানের পদ বাগিয়ে নিতে হলে মিত্রদের কাছ থেকে আরও ২০ জন সিনেটরের সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে দলটিকে।
পিপিপি’র মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০টি। তেহরিক-ই-ইনসাফের মোট আসন ১০, মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট ৫ এবং জামায়াতে ইসলামীর মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২।
পাকিস্তানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষকে সিনেট নামে ডাকা হয়। এতে মোট ১০৪ জন আইনপ্রণেতা থাকেন। প্রত্যেকেই পদত্যাগ, অযোগ্য ঘোষষিত বা বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলে ছয় বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। তবে এসব সিনেট সদস্যরা সবাই একবারে নির্বাচিত হন না। অর্ধেক নির্বাচিত হন এক সময়ে। বাকি অর্ধেক তিন বছর পরে নির্বাচিত হন।
২০১২ সালে নির্বাচিত হওয়া ৫২ সিনেটরের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এই বছরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর ২০১৫ সালে নির্বাচিত সিনেটররা আগামী ২০২১ সালে তাদের মেয়াদ শেষ করবেন।
শনিবার নির্বাচিত হওয়া ৫২ সিনেটরের মধ্যে ৪৬ জন নির্বাচিত হয়েছেন চারটি প্রাদেশিক পরিষদ থেকে। জাতীয় পরিষদ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন দুইজন। বাকি চারজন নির্বাচিত হয়েছেন উপজাতি অধ্যুষিত এলাকা থেকে।