ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে সেনা অভিযানে চার 'নিরপরাধ' বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপত্যকায় নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বেসামরিক নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল ভারতবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর সোমবার (৫ মার্চ) কাশ্মিরের কিছু অংশে কারফিউ জারি করা হয়েছে। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং স্কুলগুলো। বেশ কয়েকটি এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে উত্তেজিত জনতার সংঘর্ষের খবরও পাওয়া গেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, রবিবার বেসামরিকদের হত্যা ও তাদের জঙ্গি প্রমাণে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে রাস্তায় নেমে আসে শত শত কাশ্মিরি জনগণ। ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে তারা। কাশ্মিরে নয়া দিল্লির শাসনের অবসান দাবি করা হয়। পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের হটানোর চেষ্টা করে। বেশ কয়েকটি এলাকায় সংঘর্ষও ছড়িয়ে পড়ে।
শ্রীনগরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গ্রেটার কাশ্মির জানায়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাশ্মিরের সবগুলো স্কুল ও কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কাশ্মির সরকারের শিক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ আলতাফ বুখারি জানান, সোমবার স্কুল কলেজগুলো বন্ধ থাকবে।
মানবাধিকার সংস্থা, ইতিহাসবিদ আর রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, কাশ্মির ক্রমেই ভারত-পাকিস্তানের সমরাস্ত্র প্রদর্শনের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আর তাতে প্রাণ হারিয়েছে লাখ লাখ মানুষ। মানবাধিকারকর্মীদের দাবি অনুযায়ী, ৪৭-এর পর থেকে অন্তত পাঁচ লাখ কাশ্মিরি নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন আরও দশ লাখের মতো। খোদ ভারতের সরকারি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রভাবশালী ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এক রিপোর্টে জানাচ্ছে, ১৯৯০ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে কেবল ১১ বছরেই ৪৩,৪৬০ জন কাশ্মিরি নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক কাশ্মিরি। আর মানবাধিকার কর্মীদের দাবি অনুযায়ী ওই ১১ বছরে নিহতের সংখ্যা ১ লক্ষাধিক এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও ১ লাখ।