ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের সুনজুয়ান সেনা ক্যাম্পে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন জাইশ-ই-মোহাম্মদের নেতা মুফতি ওয়াকাস নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। ঘটনাকে এনকাউন্টার আখ্যা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত মাসে সেনা ক্যাম্পের ওই হামলায় সাত জন নিহত হয়েছিল। এমন সময় এই এনকাউন্টার সংঘটিত হলো, যখন টহলরত সেনাভ্যানে জঙ্গি হামলা পরবর্তী অভিযানে নিরপরাধ বেসামরিক নিহতের ঘটনায় কাশ্মির উত্তাল।
রবিবার (৪ মার্চ) রাতে সোপিয়ানে সেনাবাহিনীর টহল ভ্যান আক্রান্ত হয় জঙ্গি হামলায়। সেনাকর্মীদের পাল্টা গুলিতে সেসময় এক জঙ্গি নিহত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলের খানিকটা দূরে একটি গাড়ি থেকে তিন তরুণের মরদেহ উদ্ধার করে। কর্তৃপক্ষ তাদের হামলাকারীর সহযোগী দাবি করলেও স্থানীয়দের সূত্রে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, তারা ছিলেন নিরপরাধ সাধারণ মানুষ। পরে আরও একটি গাড়ি থেকে এক ‘নিরপরাধ’ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রসঙ্গত, কাশ্মিরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বেসামরিক নিরপরাধ মানুষকে হত্যার পর তাদের জঙ্গি প্রমাণের চেষ্টার জোরালো অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাশ্মির পরিস্থিতি আরও উত্তাল হয়ে ওঠে। জারি করা হয় কার্ফিউ। ররিবার সরকারি ঘোষণার মধ্য দিয়ে সোমবার থেকে স্কুল-কলেজ ও ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই দিনেই পুলওয়ামার জেলার আওয়ান্তিপুরার হাতওয়ায় এক যৌথ অভিযানে ওয়াকাস নিহত হন। সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেন, গোয়েন্দা খবরের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সিআপিএফ’র মিলে ওই এলাকায় একটি যৌথ অভিযান চালানো হয়। এতে ওয়াকাস নিহত হয়েছে।
কাশ্মিরের আইজি এসপি পাণী ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘জাইশ-ই-মোহাম্মদের বিভিন্ন অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ওয়াকাস ওই অভিযানে নিহত হয়েছেন। তিনি সুনজুয়ান হামলাসহ নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বেশ কয়েকটি হামলার মূল পরিকল্পনাকারী। অভিযানে অস্ত্র ও আইইডির মতো গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। ওয়াকাস একজন বিদেশি সন্ত্রাসী বলে জানান তিনি।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, ‘অভিযানে কোনও বেসামরিক লোক বা নিরাপত্তা বাহিনীর কেউ হতাহত হয়নি। এই ঘটনা জাইশ-ই-মোহাম্মদের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের আঘাত। কারণ গত ডিসেম্বরে একই এলাকায় আরেকটি অভিযানে সংগঠনটির আগের কমান্ডার নুর মোহদ নিহত হন। এরপর তার উত্তরাধিকারীও নিহত হলেন।
ওয়াকাস সুনজুওয়ান ছাড়াও পুলওয়ামা জেলার লেথপুরা পুলিশ লাইন ও শ্রীনগর বিমানবন্দরের বিএসএফ ক্যাম্পে হামলার ঘটনায়ও জড়িত ছিলেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি ভারী অস্ত্রে সজ্জিত জাইশ-ই-মোহাম্মদ জঙ্গিরা জম্মুর সুনজুয়ান সেনা ক্যাম্পে হামলা চালায়। জঙ্গিরা গ্রেনেড নিক্ষেপ করে ও স্বয়ক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার করে। হামলায় অংশ নেওয়া তিন পাকিস্তানি জঙ্গি জুনিয়র কমিশন্ড অফিসারদের আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়ে। পরে সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে তারা নিহত হয়। ওই হামলায় ৬ সেনা ও এক বেসামরিক লোক নিহত হয়।