বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য। বিজয়ে উল্লসিত বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দক্ষিণ ত্রিপুরায় বিজেপি সমর্থকরা লেনিনের একটি মূর্তি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। সিপিএম সমর্থকদের বাড়িতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগেরও খবর পাওয়া গেছে। পশ্চিম ত্রিপুরার পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, তা সামাল দিতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। তবে বিজেপির দাবি, এসব ঘটনার জন্য তারা দায়ী নয়, এগুলো জনরোষের ফল।
সম্প্রতি ৫৯ আসনে অনুষ্ঠিত ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনে ৪৩ আসন নিশ্চিত করেছে বিজেপি জোট। ২০১৩ সালের নির্বাচনে বিজেপি ত্রিপুরায় মাত্র দেড় শতাংশ ভোট পেলেও পাঁচ বছরের মাথায় এবার তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার দাঁড়ায় ৪৩ শতাংশ। অর্থাৎ,৪১ শতাংশেরও বেশি ভোট বেড়েছে দলটির। সঙ্গে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতাও পেয়েছে বিজেপি। দক্ষতার সঙ্গে ভাগ বসিয়েছে বামদের ভোটে। ২০১৩ সালে ত্রিপুরায় বামফ্রন্ট পেয়েছিল ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪২ দশমিক ৭ শতাংশে।
৩ মার্চ ভোটের ফল প্রকাশের দিন থেকেই বিচ্ছিন্ন সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছিলো। তবে এখন তা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটিন জানায়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বামকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা চড়াও হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নন্দনগরে ভাঙচুরের পর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে সিপিএমের পার্টি অফিস। লাল ঝাণ্ডা সরিয়ে লাগানো হয়েছে গেরুয়া পতাকা। সোমবার দক্ষিণ ত্রিপুরায় বিলোনিয়ার কলেজ স্কোয়ারে বিজয় মিছিল বের করে বিজেপি। সেখানেই বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয় লেনিনের একটি মূর্তি। ত্রিপুরা পুলিশকে উদ্ধৃত করে আরেক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি আনন্দ জানায়, গতকাল বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ বিজেপি সমর্থকরা বুলডোজার দিয়ে রাস্তার মাঝখানে থাকা লেনিন মূর্তিটি ভেঙে দেয়। এ জন্য বুলডোজার চালককে মদ খাওয়ায় তারা। ওই চালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, বুলডোজারটি জব্দ করা হয়েছে।
তবে এসব ঘটনায় নিজেদের দায় অস্বীকার করে সিপিএমের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি।