ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন বিপ্লব কুমার দেব, শপথ ৯ মার্চ

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজেপি নেতা বিপ্লব কুমার দেব। তিনি হবেন দলটি থেকে প্রথম কোনও বাঙালি মুখ্যমন্ত্রী। উপ-মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন জিষ্ণু দেব বর্মন। আগামী ৯ মার্চ শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেবেন তারা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এতে উপস্থিত থাকবেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

nonameজি নিউজের খবরে বলা হয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি’র জয়ের পরই পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় আসেন বিপ্লব কুমার দেব। তবে মঙ্গলবার দলটির প্রভাবশালী নেতা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি বিপ্লব কুমার দেবের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিন ত্রিপুরা থেকে নির্বাচিত দলীয় বিধায়কদের সঙ্গেও বৈঠকে মিলিত হন নীতিন গড়কড়ি। 

ত্রিপুরার ভূমিপুত্র বিপ্লব কুমার দেবের পরিবারের আদি নিবাস বাংলাদেশের চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বাবা হিরুধন দেব এবং মা মিনা রানি দেব ত্রিপুরায় চলে যান।

বিপ্লব কুমার দেবের শৈশব ও স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষাজীবন কেটেছে ত্রিপুরায়। কৈশোর থেকেই আরএসএস-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল তার। পরে দিল্লি গিয়ে স্নাতকোত্তর করেন। এই সময় কিছুটা ছেদ পড়ে রাজনীতিতে। সেখানে জিম ইনস্ট্রাক্টরের পেশা বেছে নেন তরুণ বিপ্লব। আর সেই বিপ্লবের মধ্যেই আগামী দিনের নেতাকে দেখেছিল বিজেপি।

ত্রিপুরায় বাম শাসনে ধস নামাতে এবং নিজেদের সংগঠন গড়ে তুলতে রাজ্যটিতে সিরিজ সফর করেন বিজেপি নেতারা। তারা অনুভব করেন এখানে দলের জন্য নতুন মুখ দরকার। সেই চিন্তা থেকেই দিল্লি থেকে ত্রিপুরা নিয়ে আসা হয় বিপ্লব কুমার দেবকে। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি রাজ্য বিজেপির সভাপতির দায়িত্ব নেন। এরপর শুরু হয় মাটি আঁকড়ে লড়াই। সেই লড়াইয়েরই চূড়ান্ত ফল এসেছে সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে।

এদিকে বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ত্রিপুরা। বিজয়ে উল্লসিত বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ত্রিপুরায় বিজেপি সমর্থকরা লেনিনের একটি মূর্তি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। সিপিএম সমর্থকদের বাড়িতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগেরও খবর পাওয়া গেছে। পশ্চিম ত্রিপুরার পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে তা সামাল দিতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। তবে বিজেপির দাবি, এসব ঘটনার জন্য তারা দায়ী নয়, এগুলো জনরোষের ফল।

৩ মার্চ ভোটের ফল প্রকাশের দিন থেকেই বিচ্ছিন্ন সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছিলো। তবে এখন তা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটিন জানায়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বামকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা চড়াও হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নন্দনগরে ভাঙচুরের পর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে সিপিএমের পার্টি অফিস। লাল ঝাণ্ডা সরিয়ে লাগানো হয়েছে গেরুয়া পতাকা। সোমবার দক্ষিণ ত্রিপুরায় বিলোনিয়ার কলেজ স্কোয়ারে বিজয় মিছিল বের করে বিজেপি। সেখানেই বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয় লেনিনের একটি মূর্তি। সূত্র: জি নিউজ, এনডিটিভি, নিউজ ১৮।