অধিকাংশ রোহিঙ্গাই এখনও রাখাইনে অবস্থান করছে: মিয়ানমার

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও জাতিগত নিধনযজ্ঞের অভিযোগ আবারও নাকচ করে দিয়েছে মিয়ানমার। বৃহস্পতিবার দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাউং তুন দাবি করেন, অধিকাংশ রোহিঙ্গাই এখনও রাখাইনে অবস্থান করছে। উল্লেখ্য, থাউং তুন এখনও অধিকাংশ রোহিঙ্গার রাখাইনে থাকার দাবি করলেও খোদ সে দেশের এক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম তাদের নিজস্ব অনুসন্ধানে ৯০ ভাগ রোহিঙ্গার রাখাইন ছাড়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পুড়ে যাওয়া মংডু গ্রামের ফাইল ছবি, রয়টার্স

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। তারা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পালিয়ে আসা বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হলেও তা কার্যকরের বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন।

জেনেভায় সাংবাদিকদের উদ্দেশে থাউং তুন বলেছেন, ‘রাখাইনে বসবাস করা মুসলিম সম্প্রদায়ের বড় অংশ এখনও রয়ে গেছে। যদি গণহত্যা চালানো হতো তাহলে সবাই বিতাড়িত হতো।’ তবে তার এই বক্তব্যের যথাযর্থ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে খোদ মিয়ানমারের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে সরকারি ও বেসরকারি তথ্যের ভিত্তিতে রাখাইনের জনসংখ্যার বিষয়ে নিজেদের একটি  হিসাব প্রকাশ করে ইরাবতী। তাতে দেখা যায়, গত বছরের আগস্টে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে রাখাইনের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৯০ শতাংশই পালিয়ে গেছে।

ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে গুটিকয় দেশ রোহিঙ্গা নিধনের ব্যাপারে নীরব হলেও গোটা বিশ্ব এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি, ব্রিটিশ মাধ্যম গার্ডিয়ান ও রয়টার্স তাদের নিজস্ব অনুসন্ধানের মাধ্যমে তুলে এনেছেন জাতিগত নিধনের আলামত। জাতিসংঘও জাতিগত নিধনের আশঙ্কা করছে। সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন (ইউএনএইচআরসি) ধারাবাহিকভাবে একে জাতিগত নিধন বলে আসছে। গত বুধবারও জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান রা’দ আল-হুসেন বলেছেন, তার জোরালো সন্দেহ রয়েছে গত বছরের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনা অভিযানে গণহত্যার আলামত রয়েছে। তবে নিজেদের একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তে সেনা সদস্যদের যাবতীয় অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। 

এককালের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি নিজেও রোহিঙ্গা নিধনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। হারিয়েছেন একের পর এক সম্মাননা। সবশেষ গতকাল (৮ মার্চ) তিনি মার্কিন  হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়ামের সম্মাননা হারিয়েছেন। এ সংক্রান্ত এক চিঠিতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারে পরিচালিত বিদ্বেষমূলক প্রচারণায় রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি উসকানি দিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানই ৫ বছর আগে ২০১২ সালে মানবাধিকার সুরক্ষায় সু চির অবদানের কারণে তাকে সম্মাননা দিয়েছিল। এখন মিউজিয়ামের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নীরবতা ও কথিত ‘নিরপেক্ষ ভূমিকা’র মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনীর নিধনযজ্ঞকে বৈধতা দিয়েছেন তিনি। সু চির অবস্থান নিপীড়িত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নিপীড়কের অবস্থানকেই জোরালো করে বলে মন্তব্য করা হয়েছে মিউজিয়াম থেকে তাকে দেওয়া এক চিঠিতে।