আধা-স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রকে মেশিনগান কিংবা স্বয়ক্রিয় অস্ত্রে রূপান্তরকারী ডিভাইসের (বাম্প স্টক) ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনুষ্ঠানিকভাবে পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে সাড়া দিয়ে এ ব্যাপারে বিধান আরোপ করেছে তারা। কেন্দ্রীয় আইনের আওতায় মেশিনগানকে যেভাবে নিষিদ্ধ বলে বিবেচনা করা হয় সে একই বিবেচনাটি এ ডিভাইসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভক্স জানিয়েছে, জনমত জানতে আপাতত ৯০ দিন চালু থাকবে এ বিধান। এরপর জনমতের ভিত্তিতে তাতে পরিবর্তন আনা হতে পারে কিংবা যেমন আছে তেমন রেখেই রুল জারি করা হবে।
২০১৭ সালের ১ অক্টোবর লাস ভেগাসের কনসার্টে নির্বিচার গুলির ঘটনায় আলোচনায় আসে বাম্প স্টক ডিভাইস। এই ডিভাইস ব্যবহার করে আধা স্বয়ংক্রিয় রাইফেলকে স্বয়ংক্রিয় রাইফেলে পরিণত করা যায়। রাইফেলকে মেশিনগানের মতো শক্তিশালী করে তোলা যায়। ওই ডিভাইস ব্যবহার করেই লাস ভেগাসে ৫৮ জনকে হত্যা করেছিল হামলাকারী। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পার্কল্যান্ডের একটি স্কুলে বন্দুকধারীর গুলিতে ১৭ জন নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে আবারও জোরালো হয় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দাবি। গত মাসে বাম্প স্টক ডিভাইস নিষিদ্ধ করতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জাস্টিস ডিপার্টমেন্টকে অনুরোধ জানিয়ে একটি আদেশে স্বাক্ষর করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই আদেশের ভিত্তিতে এইবার বাম্প স্টক ডিভাইস ব্যবহারের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট। তিন মাস জনমত যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত রুল জারি করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন অনুযায়ী ১৯৮৬ সালের আগে তৈরি পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রগুলো প্রযুক্তিগতভাবে বৈধ। বেসামরিক নাগরিকদের ব্যবহারের জন্য নতুন স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র তৈরি করাটা সেক্ষেত্রে অবৈধ।
গড়ে প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকের গুলি কেড়ে নেয় ৯৬ মানুষের প্রাণ। বছরের পর বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে চলমান হামলায় ক্ষোভ বাড়তে শুরু করে সমাজের অভ্যন্তরে। ফ্লোরিডার হামলার পর নতুন করে সামনে আসে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পুরনো বিতর্ক। মার্কিন সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীতে দেশটির নাগরিকদের ব্যক্তিগতভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার বৈধতা দেওয়া হয়। মার্কিনিদের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রত্যাশা থাকলেও গান লবির দোসর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন পর্যন্ত কোনও কার্যকর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিতে পারেননি। তবে ক্রমাগত আগ্নেয়াস্ত্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জোরালো হচ্ছে।
ফ্লোরিডার বন্দুক হামলার পর জেগে ওঠা মার্কিন ভূমি শনিবার (২৪ মার্চ) উত্তাল হয়ে উঠেছিল প্রতিরোধের ব্যঞ্জনায়। ‘মার্চ ফর আওয়ার লাইভস’স্লোগানে মিছিলে হেঁটেছে লাখ লাখ মার্কিনি। কান্নাকে প্রতিরোধের অস্ত্র বানিয়ে মরণঘাতী অস্ত্রবাজি থামানোর ডাক দিয়েছেন তারা। সমাজের গভীরে থাকা বর্ণবৈষম্যের ক্ষতচিহ্নের যন্ত্রণা ভুলে এদিন কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গ ভেদ ভুলে মানুষ একই পথে হেঁটেছেন। যুক্তরাষ্ট্র নয় কেবল, শনিবার অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দাবি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়িয়ে যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ অস্বাভাবিক মৃত্যুকে প্রতিরোধের ডাক দিয়েছেন।