রানীগঞ্জ ও আসানসোল এলাকায় ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার জন্য কয়লা মাফিয়াদের দায়ী করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার থেকে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত রবিবার রাম নবমী উদযাপনের র্যালি থেকে ছড়িয়ে পড়া ওই দাঙ্গার আগে বিহারের মুঙ্গের থেকে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র হিন্দু মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের কাছে পৌছে দিয়েছিল কয়লা মাফিয়ারা। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে কয়লা মাফিয়া ও বিহার ও ঝাড়খন্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অস্ত্র ব্যবসায়িরা এই সহিংসতার জন্য অর্থ যুগিয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এসব খবর জানিয়েছে।
গত রবিবার হিন্দু দেবতা রামের জন্ম বার্ষিকী উদযাপনের রাম নবমীর র্যালি থেকে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় এখন পর্যন্ত পাঁচজন নিহত হয়েছে বলে খবর দিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনের পাঠানো রিপোর্টে বলা হয়েছে, সহিংসতায় জড়িত কয়লা মাফিয়ারা রানীগঞ্জের কয়লা বেল্টকে ঝাড়খন্ডের ধানবাদ সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত করতে চায়। সেকারণে দুই রাজ্যের রাজনৈতিক পক্ষগুলোকে অর্থ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে তারা।
চারজন নিহত হওয়া ওই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় দেশীয় অস্ত্র ছাড়াও বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে ওই রিপোর্টে। তবে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, সম্প্রতি মুঙ্গের এলাকার অবৈধ অস্ত্র উৎপাদনকারীদের আকস্মিক অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া তাদের পরিচালিত অস্ত্র কারখানাগুলো রাজ্যের কয়েকটি স্থান থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দল সিপিএম ও কংগ্রেস এই সহিংসতার জন্য রাম নবমীর র্যালিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সংঘ অনুমোদিত বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে দায়ী করছে।
এর আগে ২০১৬ সালে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় সৃষ্ট দাঙ্গার জন্য মাদক চাষীদের দায়ী করেছিল পশ্চিমবঙ্গ। মহানবীকে ব্যঙ্গ করার অভিযোগ তুলে সেবছরের ৩ জানুয়ারি মালদা জেলায় এক পুলিশ স্টেশনে হামলা চালানো হয়। একদল মুসলমান অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভার সভাপতি কমলেশ তিওয়ারির ফাঁসির দাবিতে ওই হামলা চালানো ছাড়াও রাস্তাঘাট অবরোধ করেছিল বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন সেসময় জানিয়েছিল, ঘটনার এক সপ্তাহ আগে দেড় হাজার একর জমির মাদক ধ্বংস করে দেওয়ার জের ধরে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল।
শনিবার হনুমান জয়ন্তী উদযাপনের দিন থাকায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এরইমধ্যে তার প্রশাসনকে বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা সীমান্ত ও বিহার ও ঝাড়খন্ডের থাকা সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন। সহিসংতা সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির ওপর জোর দেন তিনি। শুধুমাত্র নিরাপত্তা নিশ্চিতের শর্তেই পুলিশকে মিছিলের অনুমতে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। এদিকে শুক্রবার থেকে অনেকটাই শান্ত হয়ে এসেছে আসানসোল। শহরের কিছু কিছু এলাকায় দোকানপাট খোলা করেছেল রাস্তায় যানবাহন চলাচলও করতে দেখা গেছে।
নতুন করে আর কোনও সহিংসতার ঘটনা না ঘটলেও আসানসোলের উত্তরাঞ্চলে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় শহরজুড়ে গণজমায়েত নিষিদ্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সাব-ডিভিশনাল কর্মকর্তা (এসডিও) পি রায় চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সাধারণের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করতে পুলিশ রাস্তায় একটি রুট মার্চ করেছে। এদিকে গত ২৫ মার্চ থেকে সহিংসতা প্রত্যক্ষ করে আসা রানীগঞ্জ, পুরুলিয়াও কানকিনারায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে এসেছে। গুজব ছড়ানো ঠেকাতে পুরুলিয়া ও আসানসোলে বন্ধ রাখা ইন্টারনেট সেবা আগামী ৪ এপ্রিল চালু করা হবে। অবশ্য যদি পরিস্থিতির উন্নতি হয় তাহলে ১ এপ্রিলও তা খুলে দেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।