ভারতের মধ্যপ্রদেশে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় একটি ভবন ধসে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তুপের নিচে অনেকে আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা রয়েছে।
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ভারতের স্থানীয় সময় শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের একটি বাস স্টেশনের কাছের তিন তলা ওই ভবনটিকে একটি প্রাইভেটকার ধাক্কা দিলে তা ধসে পড়ে। দুর্বল ওই ভবনটিতে প্রাইভেটকারটি আঘাত করবার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তা ভেঙে পড়ে।
ভবনটিতে আবাসিক হোটেল পরিচালনা করা হতো বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। এমএস হোটেল নামের ওই ভবনটি কয়েক দশকের পুরনো। রাজ্যের অন্যতম ব্যস্ত বাস স্টেশন সারওয়াতের কাছে ভবনটি অবস্থিত। তবে দুর্ঘটনার সময় ওই হোটেলটিতে কতজন অতিথি ছিলেন সে সম্পর্কে জানাতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় আশেপাশে হোটেল, হকার ও দোকানপাট ছিল। কাছেই একটি ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান চালাতেন অনিল নামে এক ব্যক্তি। তিনি জানান, ওই হোটেলটিতে অনেক শিক্ষার্থী থাকতেন। গাড়িটি আঘাত করবার পর হোটেলের একটি অংশ প্রথমে পাশের একটি পার্টসের দোকান ও এটিএম বুথের ওপর ভেঙে পড়ে। এরপরই পুরো ভবনটি ধসে পড়ে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে দমকলবাহিনী উদ্ধার অভিযান পরিচালনা শুরু করে। রাত সাড়ে বারোটা পর্যন্ত সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এগারোজনকে। তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা ছিল গুরুতর।
ডিভিশনাল কমিশনার সঞ্জয় দুবে জানান, নিহত ৯জনের মধ্যে দুজন নারী। ধ্বংসস্তুপের মধ্যে আটকা পড়ে আছেন ২০ জনেরও বেশি মানুষ। উদ্ধার হওয়া আহতদের এমওয়াই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় দুর্ঘটনায় হতাহতদের প্রতি শোক জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। ভবন ধসে বেঁচে যাওয়া সবার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’
লোকসভা স্পিকার সুমিত্র মহাজন নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি জেলা প্রশাসনকে উদ্ধার অভিযান চালানোর পাশাপাশি ভবন ধসের কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন।