‘অপবিত্র’ আখ্যা দিয়ে নারীকে সুমো কুস্তির মঞ্চ ছাড়ার নির্দেশ

জাপানে সুমো কুস্তির অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন একজন মেয়র। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে চিকিৎসা দিতে এগিয়ে যান একজন নারী। কিন্তু রেফারি সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে তাকে চলে যেতে বলেন। তার সঙ্গে আরও যেসব নারী অসুস্থ মেয়রের অবস্থা দেখতে মঞ্চে উঠেছিলেন, তাদের সবাইকে সুমো মঞ্চ ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য মাইকে বারবার ঘোষণা করা হয়েছে। নারীরা ‘অপবিত্র’—এমন ধারণার কারণে সুমো কুস্তির এলাকায় তাদের প্রবেশ নিষেধ। এর আগে সুমো বিজয়ীকে মঞ্চে উঠে পুরস্কার দিতে দেওয়া হয়নি একজন গভর্নরকে। কারণ, ওই গভর্নর নারী ছিলেন। বৃহস্পতিবারের ঘটনায় জাপানের সুমো অ্যাসোসিয়েশন দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে। 

_100708484_gettyimages-55886103

বৃহস্পতিবারের ওই ঘটনায় কুস্তির জন্য নির্ধারিত স্থানে ভাষণ দেওয়ার সময় মাইজুরু শহরের মেয়র রয়োজো তাতামি অসুস্থ হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন। ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, মেয়র অসুস্থ হয়ে পড়ে যাওয়ার পর ওই নারী এগিয়ে গিয়ে জানান, সেখানে ৬৭ বছর বয়সী অসুস্থ মেয়রকে প্রাথমিক চিকিৎসা (সিপিআর) দিচ্ছিলেন তিনি। পরে মেয়রকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয় সংবাদপত্রগুলোর কাছে উপস্থিত দর্শকরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া ওই নারী মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার পর সেখানে লবণ ছিটানো হয়েছে। জাপানের সংস্কৃতি অনুযায়ী, সুমো কুস্তির আগে মঞ্চকে পবিত্র করতে লবণ ছিটানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে লিখেছেন, মঞ্চ থেকে ওই নারীর নেমে যাওয়ার পর সেখানে লবণ ছিটানোর অর্থ হচ্ছে তিনি মঞ্চটিকে অপবিত্র করে দিয়েছেন। একজন টুইটার ব্যবহারকারী লিখছেন, মঞ্চ থেকে নামার পর লবণ ছিটানোর কাজটা কতটা রূঢ় আচরণ!’ বিবিসি আরেকজনের মন্তব্য উদ্ধৃত করেছে, ‘একজনের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে যাওয়ার এই প্রতিদান? আমার মনে হয় জাপানের সুমো অ্যাসোসিয়েশনের কর্তাব্যক্তিদের মাথায় লবণ ছিটানো উচিত।’

রেফারির ওই আচরণের কারণে বৃহস্পতিবার জাপানের সুমো ফেডারেশন দুঃখ প্রকাশ করেছে। জাপানের সুমো অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নোবাইওশি হাক্কাকু বলেছেন, ‘মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার ওই ঘোষণা দিয়েছিলেন একজন অসন্তুষ্ট রেফারি। কিন্তু যেখানে একজন মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়ার মুখে, সেখানে এরকম ঘোষণা দেওয়া ঠিক হয়নি। আমরা গভীরভাবে দুঃখিত।’

জাপানে এমন ঘটনা প্রথম নয়। আগেও সেখানে সুমো কুস্তির মঞ্চে নারীর ওঠা না ওঠা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ২০০০ সালে তৎকালীন গভর্নর ওসাকা ফুসাই ওটা মঞ্চে উঠে বিজয়ী সুমো কুস্তিগিরের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু জাপানের সুমো অ্যাসোসিয়েশন গভর্নরকে মঞ্চে ওঠার অনুমতি দেয়নি। সূত্র: বিবিসি ও ওয়াশিংটন পোস্ট।