আবারও হুথিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি সৌদি জোটের

সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুথিদের ছোড়া আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। বুধবার (৪ এপ্রিল) তারা দাবি করে, সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দায় স্বীকার করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। তাদের দাবি, সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোর মালিকানাধীন একটি সংরক্ষণ ট্যাংককে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। টুইটার বার্তায় আরামকো কোম্পানি জানিয়েছে, তাদের স্থাপনাগুলো নিরাপদ আছে এবং সেখানে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে।  

ক্ষেপণাস্ত্র (প্রতীকী ছবি)
ইয়েমেনে সৌদি জোটের বিমান হামলার জবাবে গত বছরের ৫ নভেম্বর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ইয়েমেন থেকে স্কাড-শ্রেণির ‘বোরকান-২’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ৩০ নভেম্বর আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। দুইবারই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশে ধ্বংস করার দাবি করে সৌদি আরব। ‌এরপর গত ২৬ মার্চ আরও ৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করে সৌদি জোট। আর সে ঘটনার রেশ না কাটতেই ৪ এপ্রিল সৌদি জোট আবারও হুথিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে।

বুধবার সৌদি জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালিকি বলেন, সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিজান বন্দর লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ধ্বংসাবশেষ আবাসিক এলাকাগুলোতে পড়েছে। ওই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রাত সাড়ে ৯টার দিকে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনও প্রাণহানি কিংবা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।’

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের মার্চে ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান পরিচালনা শুরু করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট। এ অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রতিরোধযোগ্য রোগে মৃত্যু হয়েছে আরও ১০ হাজার মানুষের। গৃহহীন হয়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। ভয়াবহ বিমান হামলার তাণ্ডবে দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছেন দেশটির সাধারণ মানুষ। যেসব আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখে তারা বরাবরই সৌদি আরবকে শীর্ষ মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী দেশ হিসেবে শনাক্ত করে আসছে।