পুজদেমনকে ফেরত পাঠানোর আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে জার্মান আদালত

বিদ্রোহের অভিযোগে কাতালান নেতা চার্লস পুজদেমনকে ফেরত পাঠানোর আবেদন প্রত্যাখান করেছে জার্মানির একটি আদালত। পুজদেমনের প্রত্যাবাসনের আবেদন খারিজ হলেও অভিযোগ থেকে তাকে রেহাই দেওয়া হয়নি। সেই সঙ্গে তাকে ৭৫ হাজার ডলারের বন্ডে জামিনেরও আদেশ দেওয়া হয়েছে। জার্মান আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে কাতালান সংসদের  প্রেসিডেন্ট। আর পুজদেমনকে ফেরত চাওয়া স্পেন সরকারের এক মুখপাত্র বলেছেন আদালতের আদেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এসব খবর জানিয়েছে।

চার্লস পুজদেমন

গত বছরের অক্টোবরে স্পেনের অবৈধ ঘোষিত এক গণভোটে বিজয়ী হওয়ার পর স্বাধীনতার ঘোষণা দেয় দেশটির সায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল কাতালোনিয়া। বরখাস্ত করা হয় আঞ্চলিক পার্লামেন্টের নেতা চার্লস পুজদেমনকে। পুজদেমন ও সহাকারীদের বিরুদ্ধে আনা হয় রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগ। দেশ ছেড়ে পালিয়ে প্রথমে বেলজিয়ামে আশ্রয় নেন পুজদেমন। পরে তার বিরুদ্ধে রাজদ্রোহ ও জনগণের তলবিল তছরুপের অভিযোগও আনা হয়। স্পেনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় এরেস্ট ওয়ারেন্ট জারির পর ডেনমার্ক থেকে বেলজিয়ামে যাওয়ার পথে জার্মানিতে প্রবেশ করলে গত ২৫ মার্চ গ্রেফতার হন পুজদেমন।

এক সপ্তাহ আগে বিদ্রোহে জড়িত থাকার দায়ে তাকে ফেরত চেয়ে আবেদন জানায় স্পেন। বৃহস্পতিবার জার্মানির চেলসউইগ-হোলস্টেইন আদালত তার রায়ে বিদ্রোহের অভিযোগে পুজদেমনকে ফেরত পাঠানোর আবেদন প্রত্যাখান করে। করে ওই অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। স্পেনে পুজদেমনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাও চলতে পারে বলে রায় দেয় ওই আদালত। ওই অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়ে ৭৫ হাজার ইউরো জমা দেওয়ার শর্তে তাকে জামিনে মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়।

পুজদেমনের এই শর্ত সাপেক্ষে জামিনকে কাতালান পার্লামেন্টের নেতা রজার টরেন্ট ভালো সংবাদ বলে আখ্যায়িত করেছেন। টুইটারে তিনি লেখেন, ‘আমরা সব সময়ই বলে এসেছি আমরা সহিংস ছিলাম না। বিদ্রোহের অভিযোগ সম্পূর্ণ অকার্যকর। পুরোপুরি ভুল কাহিনীতে পরিচালিত এই রাজনৈতিক নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।’

তবে স্পেন সরকার বলছে তারা জার্মান আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, সরকার আদালতের রায়ের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করে না। বিশেষ করে যখন অন্য মেধের আদালত কোনও আদেশ দেয়। আমরা সব সময়ই এটাকে শ্রদ্ধা করি, তা আমরা পছন্দ করি আর না করি।