দক্ষিণের সঙ্গে মিল রেখে ঘড়ির সময় ৩০ মিনিট বাড়িয়েছে উত্তর কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সময়ের মিল রাখার জন্য নিজ দেশের সময় ৩০ মিনিট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির এই পদক্ষেপকে কোরীয় উপদ্বীপের জাতীয় পুনর্মিলন ও একতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ‘প্রথম কার্যকর পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। টাইম জোন সমন্বয়ের এই সিদ্ধান্তটি উত্তর কোরিয়ার সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলিতে অনুমোদন করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ’র বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

aa49da54e688404e9e11b2b5658f6209_18 (1)

দুই কোরিয়ার সীমান্তে পিস হাউসে দক্ষিণের প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইনের সঙ্গে এক ঐতিহাসিক বৈঠকে উত্তরের নেতা কিম জং উন এই পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, পিস হাউসের দেওয়ালে দুটি ঘড়ি ঝুলানো দেখে আমার দুঃখ হচ্ছে। এর একটাতে সিউলের সময় আর আরেকটাতে পিয়ংইয়ংয়ের সময় চলছে।

২০১৫ সালের জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার চেয়ে নিজেদের সময় ৩০ মিনিট পিছিয়ে দেয় উত্তর কোরিয়া। তার আগে দেশ দুটি একই টাইম জোনের আওতায় ছিল। পরিবর্তনের সময় বলা হয়েছিল, কোরীয় উপদ্বীপে ১৯১০ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত উপনিবেশিক আমলে কোরিয়ার সময় জাপানের সঙ্গে মেলানো হয়েছিল। সময় এক থাকায় জাপানের চিহ্ন মুছে ফেলা যাচ্ছে না। আবার সময় পরিবর্তনের পর উত্তর কোরিয়া এখন গ্রিনিচমান সময়ের চেয়ে ৯ ঘণ্টা আগে থাকবে। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানেও একই সময় চলছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল থেকে আল জাজিরা প্রতিবেদক ক্যাথি নোভাক বলেন, এই পদক্ষেপে অনেক মানুষ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে নতুন আশা দেখতে পাচ্ছেন। দক্ষিণ কোরিয়া এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলেছে, এই পদক্ষেপে আগামী আন্তঃকোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়ার মধ্যে বিনিমিয় ও সহযোগিতার পথের বাধা দূর করার সিদ্ধান্ত প্রতিফলিত হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইনের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন

গত বছর উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক পারমাণবিক অস্ত্র ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কারণে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। উত্তর কোরিয় নেতা কিম জং উন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে অপরকে অপমান করে বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। এরপর উত্তর কোরিয়ার নেতার হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তনের ফলে কোরীয় উপদ্বীপের সংকট নিরসনে নতুন আশার সঞ্চার হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও উত্তর কোরীয় নেতার সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি হন।

শুক্রবার ট্রাম্প বলেছেন, ওই বৈঠকের সময় ও স্থান ইতোমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। যা কয়েকদিনের মধ্যে ঘোষণা করা হবে। গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে কিম জং উন তাদের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।