কিমের চিঠির অপেক্ষায় ট্রাম্প

উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের লেখা চিঠি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হস্তান্তর করতে শুক্রবার (১ জুন) হোয়াইট হাউসে যাচ্ছেন তার শীর্ষ সহযোগী কিম ইয়ং চোল। নিউ ইয়র্কে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে দুই দিনের আলোচনা শেষে ওয়াশিংটন যাচ্ছেন তিনি। পম্পেও জানিয়েছেন, ১২ জুন ট্রাম্প ও কিমের বৈঠকের ব্যাপারে অনেকখানি অগ্রগতি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।

ট্রাম্প ও কিম
৭২ বছর বয়সী কিম ইয়ং চোল উত্তর কোরিয়ার সাবেক গোয়েন্দা প্রধান এবং ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান। যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিষিদ্ধ তালিকা’য় ছিলেন তিনি। তাই যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে পৌঁছাতে বিশেষ ছাড় পেতে হয়েছে তাকে।

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১২ জুন সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও ২৪ মে উনের সঙ্গে বৈঠকটি বাতিলের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে উত্তর কোরিয়াসহ আন্তর্জাতিক বিশ্ব হতাশা প্রকাশ করে। এরপর ২৫ মে ট্রাম্প ১২ জুন তারিখেই সিঙ্গাপুরে কিমের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে বলে নতুন করে ইঙ্গিত দেন। ২৬ মে সংবাদ সম্মেলনেও এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একই দিনে আকস্মিক বৈঠক করেন উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার নেতারা। ২৭ মে সকালে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন বলেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন।

বৈঠকের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শুক্রবার (১ জুন) কিম ইয়ং চোল হোয়াইট হাউসে যাচ্ছেন। এদিন তিনি ট্রাম্পের হাতে কিমের চিঠি তুলে দেবেন। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, কিম জং উনের চিঠিতে কী আছে তা দেখার অপেক্ষায় আছেন তিনি। তার মতে, এ চিঠি উত্তর কোরীয়দের জন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ’।

এর আগে নিউ ইয়র্কে বুধ ও বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে বৈঠক করেছেন কিম ইয়ং চোল। বৃহস্পতিবার সকালে কিম ইয়ং চোলের সঙ্গে পম্পেওর বৈঠকটি প্রায় আড়াই ঘণ্টা স্থায়ী হয়। নিউ ইয়র্কের ইস্ট রিভারে একটি ফাঁকা সুউচ্চ ভবনে দুইজন বৈঠক করেন। আগেরদিন বুধবারও একই ভবনে বৈঠক করেছেন পম্পেও এবং চোল। পরে পম্পেও জানান, তারা দুইজন সবগুলো বড় বড় ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে পেরেছেন। তবে ‘এখনও আরও অনেক কাজ বাকি’ বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার পম্পেও বলেন, ‘গত ৭২ ঘণ্টায় আমরা সত্যিকারের অগ্রগতি আনতে পেরেছি, ট্রাম্প ও কিমের বৈঠকটি যেখানে হবে সেখানকার পরিবেশ কেমন হবে তা নির্ধারণ করতে পেরেছি। আমরা মনে করছি এ দুই নেতার বৈঠক নিয়ে সত্যিকারের অগ্রগতি হয়েছে। আমি নিশ্চিত যে, আমরা সঠিক পথে এগুচ্ছি।’

২০০০ সালের পর এই প্রথম কোনও উত্তর কোরীয় প্রতিনিধি হোয়াইট হাইসে যাচ্ছেন। ২০০০ সালে সেসময়কার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সঙ্গে উত্তর কোরীয় কর্মকর্তা জো মিয়োং রক দেখা করেছিলেন। তখনও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ৪৫ মিনিটের ওই সাক্ষাতে জো ক্লিনটনকে সেসময়কার উত্তর কোরীয় নেতা কি জং ইলের লেখা চিঠি দিয়েছিলেন। ক্লিনটনের সঙ্গে দেখা করার সময় জো এর গায়ে সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম ছিল। পরে স্যুট পরে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেডেলিন আলব্রাইটের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।