ইতালির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন গুইসেপ কন্টে

ইতালির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন গুইসেপ কন্টে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজেট ও অভিবাসন দেখভালের বিরোধিতাকারী প্রথম সরকারের প্রধান হিসেবে শুক্রবার তিনি এই শপথ নেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

9827226-3x2-700x467

গত চার মার্চ ইতালিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নির্দিষ্ট কোনও দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠন নিয়ে শুরু হয় অনিশ্চয়তা। নির্বাচনে ফাইভ স্টার পায় ৩২ শতাংশ ভোট। লীগ পায় ১৮ শতাংশ ভোট। এই দুই দলের জোট কন্টেকে প্রধানমন্ত্রী করার বিষয়ে সম্মত হয়ে গত ২৮ মে প্রথম দফায় নিজ মন্ত্রীসভার নাম প্রস্তাব করলে সেখানে থাকা অর্থমন্ত্রীর নাম নিয়ে আপত্তি তোলেন প্রেসিডেন্ট মাত্তারিল্লা। ৩১ মে নতুন মন্ত্রিসভার তালিকা নিয়ে গেলে তা অনুমোদন করেন তিনি।

৫৩ বছর বয়সী স্বল্প পরিচিত আইনের অধ্যাপক কন্টে ফাইভ স্টার আন্দোলনের সমর্থন পেয়েছেন। আন্দোলনটি দেশটির তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিবাদ থেকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইতালি প্রথাবিরোধী রাজনৈতিক দলের এমন জনসর্থন পাওয়ায় জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ওই এলাকায় বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলই বিস্মিত হয়েছে। কারণ এই প্রথম পশ্চিম ইউরোপের বড় কোনও দেশে এমন প্রথাবিরোধী দল সরকার গঠন করলো।

বুধবার শপথ গ্রহণের পর কন্টে কোনও মন্তব্য করেননি। প্রথম দফায় কন্টের প্রস্তাবিত অর্থমন্ত্রীর নাম বাতিল করে দেন প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারিল্লা। দ্বিতীয় দফায় এই পদে জিওভানি ত্রিয়ার নাম  প্রস্তাব করা হলে বৃহস্পতিবার মেনে নেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ইতালিতে চারদিনের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট শেষ হয়েছে। আইনের অধ্যাপক গুইসেপ কন্টের নেতৃত্বে নতুন পপুলিষ্ট সরকার ক্ষমতা নিয়েছেন।

নতুন দায়িত্ব নেওয়া মন্ত্রীদের মধ্যে লীগ নেতা মাত্তিও সালভিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি নতুন একটি কঠোর অভিবাসন নীতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন তার প্রস্তাবিত নীতি ইউরোপে প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইতালিতে ক্ষমতায় এসেছে ৬৪টি সরকার। গুইসেপ কন্টে দুই বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা পাওলো জেনটিলির কাছ থেকে ক্ষমতা নিলেন। সূত্র: রয়টার্স।