আবারও সমালোচনার মুখে দুয়ার্তে

সরাসরি অনুষ্ঠানে একজন নারী কর্মীকে চুমু দিয়ে আবারও বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তে। দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি অনুষ্ঠান চলাকালে হঠাৎই এক নারী কর্মীকে মঞ্চে ডেকে নেন তিনি। এরপর সেখানেই সবার সামনে তিনি ওই নারী শ্রমিকের ঠোঁটে ‍চুমু দেন।

p0692qm4ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, এই ঘটনায় বিতর্কের ঝড় উঠেছে। ফিলিপাইনের মানবাধিকার সংগঠন গ্র্যাব্রিয়েলা একে একজন নারীবিদ্বেষী প্রেসিডেন্টের অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা বলে মন্তব্য করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার ওই অনুষ্ঠানটি ফিলিপাইনের শ্রমিকদের জন্যই আয়োজন করা হয়েছিল। অংশ নিয়েছিলেন অনেক শ্রমিক। সেখান থেকেই একজন নারীকে মঞ্চে ডেকে নেন দুয়ার্তে। সবার সামনেই তাকে চুমু দেন।  

পরে ওই নারী দাবি করেন, চুমুতে কোনোরকম খারাপ উদ্দেশ্য বা আক্রোশ ছিল না।

একটি বই নেওয়ার জন্য দুই ফিলিপিনো নারীকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন দুয়ার্তে। এদের মধ্যে প্রথমজনকে জড়িয়ে ধরে তার গালে চুমু দেন দুয়ার্তে। আর দ্বিতীয় নারীকে তার ঠোটে চুমু দেওয়ার জন্য ইঙ্গিত করেন।

‘বন্দুকভক্ত’ বলে পরিচিত দুয়ার্তে নারীদের ধর্ষণ নিয়ে রসিকতা করে আগেও সমালোচনার মুখে ও নারীবিদ্বেষী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। ২০১৭ সালের মে মাসে সেনাদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে বলেছিলেন, কোনও সেনা যদি তিনজন নারীকে ধর্ষণ করেন তাহলে দায়-দায়িত্ব তিনি নেবেন। সেনাদের কোনও বিচারে মুখোমুখি হতে হবে না।

ভাষণে দুয়ার্তে বলেন, আপনি যদি তিনজন নারীকে ধর্ষণ করেন তাহলে আপনার হয়ে আমি কারাবরণ করব। আমি বলব, আমি করেছি। কিন্তু আপনি যদি চারজনকে বা পতিতার ছেলেকে বিয়ে করেন আমি আপনাকে পেটাব।

ধর্ষণ নিয়ে দুয়ার্তের এটা দ্বিতীয় রসিকতা। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সময় বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচিত হয়েছেন তিনি।

২০১৬ সালে দুয়ার্তে ১৯৮৯ সালের একটি ধর্ষণ ও অস্ট্রেলিয়ান মিশনারীর হত্যাকাণ্ড নিয়ে রসিকতা করেছিলেন। ওই সময় শহরটির মেয়র ছিলেন দুয়ার্তে। বলেছিলেন, ধর্ষকদের প্রথম সারিতে তার থাকা উচিত ছিল।