বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সামনে ভাষণ দিচ্ছেন পাকিস্তানের হাম্মাদ সাফি। ভাষণে সে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি ইউটিউবে বারাক ওবামার বক্তব্য দেখার মাধ্যমে তাদের নিজেদের ভাষাগত দক্ষতা আরও উন্নত করার আহ্বান জানান। তার জাদুকরী বক্তব্যে মুগ্ধ শিক্ষার্থীরা। পরিপাটি পোশাকের হাম্মাদ সাফি এরইমধ্যে পাকিস্তানের একজন জনপ্রিয় ইন্টারনেট সেনসেশনে পরিণত হয়েছে। তার বক্তব্য শুনছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। তবে আকর্ষণীয় হাসি আর উদ্দীপনামূলক বক্তব্যই তার মূল চমক নয়। চমক হচ্ছে মাত্র ১১ বছর বয়সেই নিজের প্রতিভার এমন স্ফূরণ ঘটাতে সক্ষম হয়েছে হাম্মাদ সাফি।
ভিডিও দেখার জনপ্রিয় সাইট ইউটিউবে তার নিজস্ব চ্যানেল রয়েছে। সেই চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা এক লাখ ৪৫ হাজার। কিছু কিছু ভিডিও দেখা হয়েছে লাখ লাখ বার করে। শিক্ষার্থীদের সামনে ডায়াসে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণেও পরিণত হয়েছেন একজন অনলাইন তারকায়।
তার বক্তব্যে বহুল ব্যবহৃত বাক্যগুলোর মধ্যে রয়েছে, ‘প্রতিটি সেকেন্ডই একটি চ্যালেঞ্জ। ব্যর্থতাই সাফল্যের ভিত্তি।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র বিলাল খানের বয়স হাম্মাদ সাফির দ্বিগুণ। সাফির বক্তব্য শুনতে এসে বিলাল জানালেন, তার ওপর ১১ বছরের এই বালকের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।
বিলাল খান বলেন, ‘কয়েক মাস আগেও আমি নিজের জীবন নিয়ে হতাশ ছিলাম... এমনকি আমি আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলাম। কারণ জীবনে কোনও চাকরি বা সফলতা পাচ্ছিলাম না। তারপর আমি হাম্মাদ সাফির একটি মুভি দেখলাম। ভাবলাম, ১১ বছরের একটি শিশু যদি পারে; আমি কেন পারবো না?’
ইউটিউবে হাম্মাদ সাফির মোটিভেশনাল বক্তব্যগুলোর নিচে কমেন্ট বক্সে তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ দর্শকরা।
এক সময় হাম্মাদ সাফির ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন সামিউল্লাহ ওয়াকিল। তিনি বলেন, ‘মানুষ তার কথার জন্যই তাকে ভালোবাসে। সে সবসময়ই সেরা।
তার তারুণ্য ও পরিপক্কতা যেন এক জাদুকরী ব্যাপার। অসাধারণ বাগ্মী এই শিশুকে দেখা হয় ইতিবাচক পাকিস্তানের একজন প্রতীক হিসেবে।
পাকিস্তান রাষ্ট্রের অন্যতম অগ্রদূত মহাকবি আল্লামা ইকবাল সম্পর্কে হাম্মাদ সাফির মন্তব্য, তার জন্ম না হলে নিশ্চিতভাবেই আমাকে কিংবা যে কাউকে কোনও ইংরেজ পরিবারের বাড়িতে টয়লেট পরিষ্কার করতে হতো।
পোশোয়ারের ইউনিভার্সিটি অব স্পোকেন ইংলিশের শিক্ষকরা হাম্মাদ সাফিকে দেখে থাকেন একজন ক্ষুদে শিক্ষক হিসেবে। সাধারণ একটি স্কুলের শিক্ষার্থী হয়েও ইউনিভার্সিটি অব স্পোকেন ইংলিশে ক্লাস নেয় সে। ইংরেজির পাশাপাশি সাপ্তাহিক মোটিভেশনাল স্পিকিং-এর ক্লাসও নেয় সে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আম্মার সোহাইল জানান, অল্পদিনেই তারা তার অসাধারণ আত্মবিশ্বাসের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে।
ইউনিভার্সিটি অব স্পোকেন ইংলিশের ক্লাসে ফুল টাইম সময় দিতে এক পর্যায়ে নিজের স্কুল ছাড়ে হাম্মাদ সাফি। তবে ইংরেজি নিয়ে নিজের পড়াশুনা অব্যাহত রাখে সে। এর পাশাপাশি চলতে থাকে মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবেও অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তব্য।
হাম্মাদ সাফির বাবা ৪৮ বছরের আবদুল রেহমান খান পেশোয়ারের একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। তিনি জানান, তার ছেলে আর ১০ জনের মতো নয়। মানুষ তার মধ্যে কিছু দেখতে পায়। তার জন্য আমি বিশেষ শিক্ষক রেখেছি। তাকে আমি একজন বিশেষ নেতা হিসেবে দেখতে চাই।
তিনি বলেন, তার দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তার জন্য আমি গর্বিত। সে আল্লাহ তাআলার উপহার।
দেয়ালে ঝুলানো আল্লামা ইকবাল, বিল গেটস ও আলবার্ট আইনস্টাইনের প্রতিকৃতির দিকে ইঙ্গিত করে হাম্মাদ সাফি বলেন, ব্যাটম্যান ও সুপারম্যান হচ্ছে ফেক হিরো, কিন্তু এরাই সত্যিকারের নায়ক।
হাম্মাদ সাফির এক লেকচারে উপস্থিত ছিলেন পেশোয়ার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বখত জামান বলেন, তার ভেতরকার শিশু সত্তা কোথায়? এটা সে পেরিয়ে এসেছে। কারণ, সে তার বয়সের তুলনায় বাড়তি কিছু ভাবে।
এই অধ্যাক বলেন, এই মেধাবী শিশুটি একজন ভালো মোটিভেশনাল কোচ। তবে তার বুদ্ধিবৃত্তিক গভীরতার ঘাটতি রয়েছে। সে প্রত্যাশিত জায়গায় পৌঁছাতে পারে; তবে এজন্য সময় লাগবে।
লাহোরের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও লেকচার দিয়েছে হাম্মাদ সাফি। প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চ্যান্সেলর হাসান আমির শাহের প্রত্যাশা, শিশুটির প্রতি সবার এমন আগ্রহ তাকে বিপথগামী করে তুলবে না। তাকে আরও বহু দূর যেতে হবে, অনেক বই পড়তে হবে। ২০ বছর বয়সেই কেবল আমরা তাকে মূল্যায়ন করতে পারবো; যখন সে প্রাপ্তবয়স্ক হবে। সূত্র: ইয়াহু।