ঈদ উপলক্ষে ১৭ বছর পর আফগানিস্তানে অস্ত্রবিরতি তালেবানের

চলতি মাসে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৭ বছর পর আফগানিস্তানে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তিনদিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে জঙ্গি গোষ্ঠী তালেবান। ২০০১ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর যা প্রথম। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

তালেবানের অস্ত্রবিরতি

তালেবানের পক্ষ থেকে জানানো হয়,  ঈদের ছুটির দিনগুলোতে তারা তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখবে। তবে বিদেশি সেনাদের বিরুদ্ধে তাদের হামলা অব্যাহত থাকবে। ঘোষণা দেওয়ার কয়েকঘণ্টা আগেই কুন্দুজ প্রদেশে এক হামলা চালায় তালেবান।  হামলায় প্রাণ হারান ১৯ জন পুলিশ।

নাইন ইলেভেনের হামলার পর ২০০১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নির্দেশে আফগানিস্তানে তালেবানবিরোধী মার্কিন অভিযান শুরু হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে আফগানিস্তানে তালেবানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ অভিযান শেষ হয় ২০১৪ সালে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী এখনও আফগান সেনাদের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। আফগানিস্তানে এখনও প্রায় ৮,৪০০ সেনা মোতায়েন রয়েছে।

এর আগে আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনী যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলো।  বৃহস্পতিবার (৭ জুন) আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে জানান, আগামী ২০ জুন পর্যন্ত এ অস্ত্রবিরতি কার্যকর থাকবে। তবে আইএসসহ অন্য জঙ্গি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে। কাবুলে তালেবান হামলা নিয়ে ফতোয়াদানকারী ইসলামি চিন্তাবিদদের সঙ্গে এ সপ্তাহে আফগান সরকারের বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইসলামি চিন্তাবিদরা তালেবানের সঙ্গে অস্ত্রবিরতিতে পৌঁছানোর সুপারিশ করেছিলেন। আর সে সুপারিশ অনুমোদন করে বৃহস্পতিবার অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দেয় আফগান সরকার।

এর দুইদিন পর শনিবার অস্ত্রবিরতির ঘোষণা আসলো তালেবানের পক্ষ থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে মার্কিন জোটের নেতৃত্বাধীন জোটও এই অস্ত্রবিরতির প্রতি সম্মান রাখবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে প্রস্তাবিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তালেবানকে একটি বৈধ রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব দেন ঘানি। এর মধ্য দিয়ে ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ঘানি বলেছিলেন, ‘শান্তি আলোচনায় আসতে অস্ত্রবিরতি কার্যকর করতে হবে এবং তালেবানকে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত হতে হবে। আটক তালেবানদের মুক্তির বিষয়টি আফগানিস্তানের সরকার বিবেচনা করছে এবং এ বিষয়ে আফগানিস্তান পাকিস্তানের সঙ্গেও কথা বলেছে।