রাশিয়ার ১১টি শহরের ১২টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবলের এবারের আসর। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সর্ববৃহৎ এই আয়োজনকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটি। মস্কোর বিখ্যাত লুজনিকি স্টেডিয়ামে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠবে ২০১৮ ফুটবল বিশ্বকাপের। তবে এবারের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে যেন অনেকটাই পুনরাবৃত্তি ঘটছে ১৯৮০ অলিম্পিকের।
১৯৮০ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগানিস্তান নীতি নিয়ে উদ্বেগ, ক্ষোভ ছিল। কিন্তু বর্তমানে এই উদ্বেগ বহুমাত্রিকতা পেয়েছে। সিরিয়া যুদ্ধের পাশাপাশি রয়েছে নিজ দেশে বিরোধীদের ওপর দমনপীড়ন। যুক্তরাজ্যে পক্ষত্যাগী সাবেক রুশ কূটনীতিক সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার কন্যাকে বিষ প্রয়োগের ঘটনায় অন্তত দুইটি দেশ বিশ্বকাপ উপলক্ষে রাশিয়ায় অফিসিয়াল প্রতিনিধি দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে ১২টি এলাকায় খেলা অনুষ্ঠিত হবে সেগুলোর অন্তত কয়েকটিতে সরকারিভাবে ফিল্টারিং পদ্ধতি অনুসরণের আশঙ্কা করা হচ্ছে। নানা আঙ্গিকের বিধিনিষেধ আসছে শিক্ষার্থীদের ওপর। খবর পাওয়া যাচ্ছে, বিশ্বকাপকে সামনে রেখে গণহারে কুকুরগুলোকে হত্যা করা হচ্ছে। এটা স্থানীয় সরকারগুলোর একটি চিত্র মাত্র। ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এ বছর স্থানীয় সরকারগুলোর ব্যায় ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড ছাড়িয়ে যাবে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে এরইমধ্যে ২০ লাখ মানুষ একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন। কিন্তু কুকুরপ্রেমী পুতিন তাতে সায় দেননি।
রাশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম শহর ইয়েকাটেরিনবার্গে ছাত্রাবাসগুলো খালি করে দেওয়া হচ্ছে। কেননা গুরুত্বপূর্ণ অতিথি, এবং বিশ্বকাপ উপলক্ষে মোতায়েন করা নিরাপত্তা বাহিনীর হাজার হাজার সদস্যের ব্যবহারের জন্য সেগুলোর প্রয়োজন রয়েছে।
একই শহরে ভিক্ষুক ও গৃহহীনদের বিরুদ্ধে চলছে পুলিশের অভিযান। গত মে মাসে শুরু হওয়া এই অভিযানের প্রধান টার্গেট হচ্ছে মূলত সেসব স্থান যেখানকার সড়কগুলোতে মানুষ রাতযাপন করে থাকে। সূত্র: ইন্ডিপেনডেন্ট।