কোরীয় যুদ্ধে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পরিবারগুলোর জন্য পুনর্মিলনীর আয়োজন করা নিয়ে আলোচনা করেছে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার একটি পর্যটন এলাকায় শুক্রবার (২২ জুন) দুই কোরিয়ার প্রতিনিধিদের মধ্যে এ আলোচনা হয়। প্রায় তিন বছর ধরে দুই কোরিয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পরিবারগুলোর পুনর্মিলনীর আয়োজন করা হয়নি।
১৯৫০-১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরীয় যুদ্ধে দুটি দেশ বিভক্ত হয়ে গেলে কয়েক হাজার পরিবারও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এদের কারও কারও পরস্পরের সঙ্গে সামান্য যোগাযোগ থাকলেও কারও কারও একেবারেই নেই। ১৯৮৮ সাল থেকে দেশ দুটির মধ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পরিবারগুলোকে মাঝে মাঝে একত্রিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। তখন এক আবেগ আপ্লুত দৃশ্য দেখা যায়। তবে বিচ্ছিন্ন পরিবারগুলোর এই পুনর্মিলনী মাঝে মাঝে আবার দুদেশের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে বাতিল হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০১৫ সালে এ ধরনের পারিবারিক পুনর্মিলনী হয়েছিল। গত ২৭ এপ্রিল উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন ও দক্ষিণ কোরীয় নেতা মুন জায়ে ইনের মধ্যে বৈঠকের পর দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটে। ওই বৈঠকেই বিচ্ছিন্ন পরিবারগুলোর পুনর্শিলনে পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন দুই নেতা। বৈঠকে তারা একমত হন, আগস্টের কোনও একটি দিনে দুই দেশ জাতীয় ছুটির দিন পালন করবে এবং ওইদিন পরিবারগুলোর পুনর্মিলনী আয়োজিত হবে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার পর্যটক এলাকা মাউন্ট কুমগাং-এর একটি হোটেলে শুক্রবার বৈঠক হয়। বৈঠকের পর উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতা পাক ইয়ং ইল বলেন, ‘আমাদের উচিত একে অপরের প্রতি বিশ্বাস রেখে এবং একজন আরেকজনকে বোঝার চেষ্টা করার মধ্য দিয়ে ইতিবাচক কিছু অর্জনের চেষ্টা চালানো। আমাদের উচিত, অতীতকে ভুলে আমাদের নেতারা যে পথ খুলেছেন সে পথ ধরে এগিয়ে যাওয়া।’
মানবিক দিক ও মানবাধিকারের ইস্যু বিবেচনা করে বিচ্ছিন্ন পরিবারগুলোকে একে অপরের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পরিবারগুলোর মধ্যে ভিডিও কনফারেন্স চালু এবং চিঠি আদান-প্রদানের ব্যবস্থা করারও প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।