রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ইইউ’র

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তারা মিয়ানমারের মুসলিমদের বিরুদ্ধে ‘কৌশলগতভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন’ করেছেন বলে মনে করে ইইউ।

অভিযুক্ত সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সম্পত্তি বাজেযাপ্ত করা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর আগে মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রি এবং দেশটির সেনাবাহিনীকে যে কোনও ধরনের প্রশিক্ষণ বা সহযোগিতার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইইউ।

যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সোমবার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাবে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

যুক্তরাজ্যের বিদেশ ও কমনওয়েলথ দফতরের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড বলেছেন, ‘আমরা সন্দেহজনক ব্যক্তিদের চিহ্নিত করছি। তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপে মামলা দায়েরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহে নেতৃত্ব দিচ্ছি। আমরা নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রয়োজনীয় ঐক্য নিশ্চিত করার জন্যও কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি।’

মার্ক ফিল্ড আরও বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা গত বছর রাখাইনে সংঘটিত যৌন সহিংসতাসহ ‘ভয়াবহ’ সহিংসতার বিষয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া। তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা এই সহিংসতার ঘটনায় অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার মতো দায়ী। তিনি বলেন, এটা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জন্য একটি বার্তা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নজর রাখছে। আমরা সংঘটিত নির্যাতনের জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করতে পারি এবং আমরা তা করবো। এই তালিকায় আরও নাম যুক্ত হবে।

মার্ক ফিল্ড বলেন, আমরা মিয়ানমারজুড়ে সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবো। প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করবো। রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাকে যুক্তরাজ্য সরকার ‘ভয়ঙ্কর’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো।

সহিংসতার ঘটনায় তদন্ত কমিশন গঠনে মিয়ানমারের ঘোষণাকেও স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। তবে অপরাধীদের শাস্তি ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক চাপ বন্ধ না করার ব্যাপারেও সতর্ক করেছে দেশটি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিয়ানমারের আংশিক গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার পথকে সহজ করতে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা শিথিল করেছিল যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এই নিষেধাজ্ঞায় তাদের আগের অবস্থান থেকে নীতিগত পরিবর্তনের স্পষ্ট ছাপ। রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নিধনযজ্ঞের মুখে সাত লক্ষাধিক রোহিঙ্গার পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে দেশটির প্রতি কৌশলে পরিবর্তন এনেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।