‘পারমাণবিক গবেষণা অব্যাহত রেখেছে উত্তর কোরিয়া’

পারমাণবিক গবেষণা অব্যাহত রেখেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির ইয়ংবিয়ুন পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রে অবকাঠামোগত উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে বুধবার এমন তথ্য দিয়েছে পারমাণবিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ‘৩৮ নর্থ’।

North Koreaওয়েবসাইটটি বলছে, ইয়ংবিয়ুন পরমাণু কেন্দ্রে ওয়াটার কুলিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে কুলিং ওয়াটার রিজার্ভার। কেন্দ্র পরিদর্শনকারী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে দুইটি ভবন।

সিঙ্গাপুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের বৈঠকের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পিয়ংইয়ং-এর এমন পরমাণু তৎপরতার খবর এলো। ওই বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে দেশটি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে কোনও সময়সীমার কথা জানায়নি। বৈঠক শেষে ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেন, উত্তর কোরিয়া এখন আর পরমাণু হুমকি নয়। ওই ঘোষণার ১০ দিনের মাথায় উত্তর কোরিয়াকে এখনও বড় ধরনের হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করে দেশটির বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আরও এক বছরের জন্য বহাল রাখার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এমন সময় এই নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখার ঘোষণা এলো যখন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বেশ কয়েকটি সামরিক মহড়া স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের দাবি, কূটনৈতিক সমঝোতাকে সমর্থন জানাতেই মহড়া স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে চলতি সপ্তাহে উভয় দেশের আরেকটি বড় ধরনের মহড়া স্থগিত করা হয়েছিল।

২০০৮ সাল থেকেই উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি রেখেছে। এরপর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্টরা এই অবস্থা নিয়মিত জারি এবং উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে গেছেন। গত শুক্রবার ট্রাম্প এই জাতীয় জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরও বাড়িয়েছেন। মার্কিন কংগ্রেসকে এক নোটিশে ট্রাম্প জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার সরকারের পদক্ষেপ ও ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রের কারণে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের হুমকি। এর ফলে দীর্ঘদিন চলে চলমান নিষেধাজ্ঞাও জারি থাকছে। এতে করে ওয়াশিংটনে উত্তর কোরিয়ার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, ট্রাম্পের ঘোষণায় উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে। এক দশক আগে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ। সূত্র: আল জাজিরা, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।