রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্যপূর্ণ ব্যবস্থা বাতিল এবং তাদের নাগরিকত্ব ও সম্পদের অধিকার নিশ্চিত করতে মিয়ানমার সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়ানঘি লি। বুধবার (২৭ জুন) জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
গত বছরের আগস্টে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। আন্তর্জাতিক চাপ জোরালো হওয়ার একপর্যায়ে প্রত্যাবাসন চুক্তিতে বাধ্য হয় মিয়ানমার। তবে সেই চুক্তির পর বেশ খানিকটা সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও ধোঁয়াশা কাটছে না। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৮ হাজার রোহিঙ্গার নাম প্রস্তাব করা হলেও মাত্র ৬০০ জনকে ফেরত নিতে চেয়েছে মিয়ানমার। এরমধ্যেই প্রত্যাবাসন প্রশ্নে জাতিসংঘ ও মিয়ানমারের মধ্যে সমঝোতা চুক্তিটি স্বাক্ষর হয়।
জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়ানঘি লি মনে করেন, মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের অনুকূল নয়। বুধবার, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের মানদণ্ডগুলোর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা বন্ধ করতেও মিয়ানমার সরকারকে আহ্বান জানান তিনি।
লি’র বক্তব্য নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছে মিয়ানমার সরকার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব উ মিন্ট জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলকে বলেন, তার সরকার লি’র সঙ্গে কাজ করতে পারবে না, কারণ তার মধ্যে ‘বস্তুনিষ্ঠতার ঘাটতি’ রয়েছে। লি-কে সরিয়ে তার জায়গায় অন্য কাউকে নিয়োগ দিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন উ মিন্ট। তার দাবি, রাখাইন রাজ্যে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের জবাবদিহিতার মুখোমুখি করতে এবং রাখাইন অ্যাডভাইজারি কমিশনের জন্য সুপারিশ করতে ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ নিচ্ছে মিয়ানমার সরকার। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত উল্লেখ করেননি উ মিন্ট।
উল্লেখ্য, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নিপীড়নসহ মিয়ানমারজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো তদন্ত করতে এ বছরের জানুয়ারিতে মিয়ানমার সফরের কথা ছিল জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়ানঘি লির। কিন্তু সে সফর বাতিল হয়ে যায়। গত বছরের ডিসেম্বরে এক বিবৃতিতে লি অভিযোগ করেছিলেন, মিয়ানমার সরকার তাকে সফরের অনুমতি দেয়নি। তার সন্দেহ, রাখাইনে এমন ভয়াবহ কিছু ঘটছে, যা আড়াল করতে তাকে সফরে বাধা দেওয়া হয়েছে।