আমাদের গুলি করা হয়েছিল: কাশ্মিরে বেসামরিক হত্যার প্রতিক্রিয়ায় সেনাবাহিনী

জম্মু কাশ্মিরে ৩ বেসামরিক হত্যার প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সংঘবদ্ধ জনতার আক্রমণ প্রতিহত করতেই তারা গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, প্রায় ৫০০ মানুষের একটা সংঘবদ্ধ দল পাথর ও পেট্রোল বোমা ছোঁড়ার পাশাপাশি তাদের লক্ষ্য করে গুলিও চালিয়েছে। ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি সেনাসূত্রকে উদ্ধৃত করে এই খবর জানিয়েছে।
noname

শনিবার দক্ষিণ কাশ্মিরে কুলগাম জেলার একটি গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনী তল্লাশি অভিযান চলাকালে সংঘবদ্ধ জনতার রোষের শিকার হয় ভারতীয় বাহিনী। হাওরা এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে বিক্ষুব্ধ কাশ্মিরিরা। সে সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১৬ বছরের এক তরণীসহ তিন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে আরও পাঁচজন।  

শনিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর তরফ থেকে দাবি করা হয়, অভিযানরত বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর আর পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করছিল। তাদেরকে বারবার সতর্ক করা হচ্ছিলো। বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, অচেনা কিছু দুস্কৃতিকারী সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। সেনা-বিবৃতির দাবি অনুযায়ী, গুলিতে কয়েকজন ভারতীয় সেনা আহতও হয়েছেন। ভয়াবহ উত্তেজনা সৃষ্টির ওই প্রচেষ্টা রুখে সেনাবাহিনীর সুরক্ষা নিশ্চিতেই তারা গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছেন।

উল্লেখ্য, বিশ্বের সবথেকে সামরিকায়িত অঞ্চলগুলোর একটি কাশ্মির। জননিরাপত্তা আইনের নামে সেখানে ভারতীয় সেনাবাহিনী ধারাবাহিক আটক-গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করে।  ব্রিটিশ মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ২০১৫ সালের এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ১৯৯১ সাল থেকে তখন পর্যন্ত এই আইনের আওতায় ৮ হাজার থেকে ২০ হাজারের মতো মানুষকে আটক করা হয়েছে।

স্ট্যাটফোরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে  জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে মোদি প্রধানতম টার্গেট হিসেবে নিতে পারেন জম্মু-কাশ্মিরকে। সেখানে এমনিতেই বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সার্বক্ষণিক লড়াইয়ে ব্যস্ত দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। ওই পাহাড়ি এলাকায় রয়েছে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মির। এছাড়া চীনের দাবিকৃত আকসাই চিনও রয়েছে সেখানে।

যুগ যুগ ধরে এই অঞ্চল ভয়াবহ সহিংসতার শিকার। ভারত ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রায়ই গুলি বিনিময় চলে। সহিংসতা ও নিপীড়নের প্রতিবাদে সেখানে গড়ে উঠেছে আন্দোলন। ভারত-বিরোধী স্বাধীনতাকামীরা প্রায়শই ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর।