পাকিস্তানের জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ-এনএইচএ’র অর্থনৈতিক সংকটের কারণে চীনের সঙ্গে মিলে ৫ হাজার ২০০ কোটি ডলারের চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর-সিপিইসি প্রকল্পের কাজের মন্দাভাব বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে অর্থের অভাবে প্রকল্পের অধীনে বেশ কয়েকটি সড়কের নির্মাণ কাজও বন্ধ হয়ে গেছে। কয়েক দিন আগে এই কাজের জন্য বরাদ্দের প্রায় ৫০০ কোটি রুপির চেক বাউন্স করেছে বা ফেরত এসেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররাও। সিপিইসি প্রকল্পগুলোতে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এমন সমস্যা এবারই প্রথম দেখা দিয়েছে। সূত্রের বরাত দিয়ে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন এ খবর জানিয়েছে।ৱ
করাচি-লাহোর মোটরওয়ের সব শাখার পাশাপাশি সিপিইসি’র পশ্চিমা রুটের হাকলা-দেরা ইসমাইল খান (ডিআইকে) প্রজেক্টও এর মধ্যে রয়েছে। সূত্র জানায়, এই আর্থিক সংকটের কারণে হাকলা-ডিআইকে পর্যন্ত ৪০০ কিলোমিটার সড়কের ৭টি প্যাকেজের সবগুলোই আক্রান্ত হয়েছে। তাই পুরো সড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের চেক বাউন্স হয়েছে তারা হলো, এসকেবি, জেডকেবি, নোমান কনস্ট্রাকশন, এসিজিসি চাইনিজ, সরদার আশরাফ ডি বেলুচ, চীনা রেলওয়ে ১৭ গ্রুপ ও মাত্রাকন।
সূত্র জানায়, এসব প্রকল্প শুধু সিপিইসি প্রকল্পের অংশই নয়, স্থানীয় শিল্পকারখানাগুলোও এই প্রজেক্টের ওপর নির্ভরশীল। আর কাজই বন্ধ হওয়ায় বিপুল সংখ্যক প্রকৌশলী ও শ্রমিকও ভোগান্তিতে পড়েছে।
এনএইচএ’র মুখপাত্র কাশিফ জামান বলেন, সরকারের বরাদ্দ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কর্তৃপক্ষ গত ২৯ জুন তারিখে ৫০০ কোটি রুপির চেক ইস্যু করেছে। তিনি বলেন, একই দিন ১৫০ কোটি রুপি ছাড় দেওয়া হলেও বাকিগুলো এখনও সম্ভব হয়নি। জামান আরও বলেন, সমস্যাটির কথা সরকারকে জানানো হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুতই তা সমাধান হয়ে যাবে।
ঠিকাদারদের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ঘটনায় প্রকল্পের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়নি। হাজারা মোটরওয়েসহ অন্যান্য সেকশনের ক্ষেত্রেও একই বিষয় সত্য। তিনি বলেন, যেসব প্রকল্পের কথা বলা হচ্ছে, এবছর ডিসেম্বরের মধ্যে তার সব শেষ হবে।
তবে সূত্র দাবি করছে, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে ও ঠিকাদারদের অর্থ শোধ না করা হলে সিপিইসি প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্ব হতে পারে বলে জানা গেছে।