পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের ২৭০টির মধ্যে ২৬৮টি আসনের ফল ঘোষণা করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন (ইসিপি)। ঘোষিত ফলাফলে সাবেকে ক্রিকেট তারকা ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ১১৭টি আসনে জয়ী হয়ে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন এখবর জানিয়েছে।
ঘোষিত ফল অনুসারে, পিটিআই’র নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তান মুসলিম লিগ (পিএমএল-এন) জয় পেয়েছে ৬৪ আসনে। আর বিলাওয়ল ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি(পিপিপি) পেয়েছে ৪৩ আসন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ১২টি আসনে।
ধর্মীয় দলগুলোর জোট মুত্তাহিদা মজলিস-এ-আমাল (এমএমএ) পেয়েছে ১৩টি আসন, মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট-পাকিস্তান (এমকিউএম-পি) পেয়েছে ৬ আসন পাকিস্তান মুসলিম লিগ-কায়েদ ৪টি আসনে জয় পেয়েছে।
এছাড়া সিন্ধুর গ্রান্ড ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স ও বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টি (বিএনপি)পেয়েছে ২টি আসন করে। বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টি ৩ আসনে জয়ী হয়েছে। পিটিআই’র মিত্র শেক রশিদের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লিগ, আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টি (এএনপি) একটি করে আসনে জয় পেয়েছে।
ঘোষিত ফলাফলে নিশ্চিত হয়ে গেছে পিটিআই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না। দেশটির সাধারণ নির্বাচনে কোনও দলকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হলে ১৩৭টি আসনে জয়ী হতে হয়। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ইমরান খানকে এখন ছোট দল কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে জোট করে সরকার গঠন করতে হবে।
পাকিস্তানের ৩৪২ আসনবিশিষ্ট জাতীয় পরিষদে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২৭২টি আসনে। বাকিগুলো সংরক্ষিত আসন। এরমধ্যে ৬০টি নারীদের জন্য ও বাকি ১০টি ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত। দুই আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত থাকায় বুধবার ২৭০টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে ৫১ দশমিক ৮৫ শতাংশ ভোটার।
বুধবার ভোট হলেও ফল প্রকাশে দেরির কারণ সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে ফল প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। সূত্রকে উদ্ধৃত করে ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, রেজাল্টস ট্রান্সমিশন সিস্টেম অকার্যকর হয়ে পড়ায় এখন ফ্যাক্সের মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করতে হচ্ছে কমিশনকে। আর সে ফলাফলকে ম্যানুয়ালি একত্রিত করার প্রয়োজন পড়ছে।