বিশ্বজুড়ে ক্ষমতা উন্মোচনকারী বিকল্প সংবাদমাধ্যম উইকিলিকস-এর প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে অবশ্যই ইকুয়েডরের লন্ডন দূতাবাস ছাড়তে হবে বলে জানিয়েছেন ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট লেনিন মরেনো। গ্রেফতার এড়াতে ২০১২ সাল থেকে সেখানে অবস্থান করে আসছেন অ্যাসাঞ্জ। শুক্রবার মাদ্রিদে এক সংবাদ সম্মেলনে ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট একথা বলেন। একই দিন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র দফতর থেকে জানানো হয়, ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্টের যুক্তরাজ্য সফরের সময়ে এই বিষয়ে কোনও আলাপ ওঠেনি। অ্যাসাঞ্জের মামলা নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে বলেও জানায় মে’র দফতর।
এর আগে সাড়া জাগানো মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্টারসেপ্ট ইকুয়েডরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রেসিডেন্টের দফতরের ঘনিষ্ঠ একটি একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানায় প্রেসিডেন্ট মরেনো যুক্তরাজ্যের সঙ্গে অ্যাসাঞ্জের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তারা পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা অ্যাসাঞ্জকে ব্রিটিশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে একটি চুক্তিতে চূড়ান্ত করার কাছাকাছি রয়েছেন। তবে শুক্রবার এই খবর অস্বীকার করেছে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দফতর।
শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট লেনিন মরেনো বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন থাকা কোনও ব্যক্তির মানবাধিকারেরও লঙ্ঘন।’ সুইডেনে দুই নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠার পর ২০১২ সালের জুন থেকে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসের আশ্রয়ে আছেন অ্যাসাঞ্জ। তবে ধর্ষণের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন তিনি।
অ্যাসাঞ্জের আশঙ্কা, তিনি সুইডেনে গেলে সুইডিশ সরকার তাকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে প্রত্যর্পণ করবে। আর যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বিচারের নামে মৃত্যুদণ্ড দেবে। ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে বের হলে সুইডেন বা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে প্রত্যর্পণ না করার নিশ্চয়তা চান অ্যাসাঞ্জ। গত বছর সুইডিশ প্রসিকিউটররা ওই অভিযোগের তদন্ত বন্ধ করে দেন। তবে জামিনের শর্ত ভঙ্গ করায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। চলতি বছর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে অ্যাসাঞ্জ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইকুয়েডরকে চাপ প্রয়োগের খবর মেলে। এই সপ্তাহে ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট লেনিন মরেনো’র লন্ডন সফরকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় উঠে আসে অ্যাসাঞ্জের নাম।
গত জুনে ইকুয়েডরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোস ভ্যালেন্সিয়া বলেছিলেন, অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয় চিরস্থায়ী নয়। আর তার দেশ এএই সমস্যার একটি সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসাদের ওপর নজরদারি চালাতে ইকুয়েডর ৫০ লাখ মার্কিন ডলার খরচ করেছে।